ডিডেরো, একটি গ্লোবাল প্রোকিউরমেন্ট স্বয়ংক্রিয়তা স্টার্টআপ, ৩০ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ এ তহবিল সংগ্রহ করেছে। এই রাউন্ডটি কেমিস্ট্রি এবং হেডলাইন যৌথভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে, আর মাইক্রোসফটের ভেঞ্চার ফান্ড M12-ও অংশগ্রহণ করেছে। তহবিলের মূল লক্ষ্য হল এআই‑ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মকে দ্রুত বাজারে নিয়ে যাওয়া এবং উৎপাদন শিল্পের জটিল সরবরাহ শৃঙ্খলকে সহজ করা।
প্রতিষ্ঠা দলটিতে তিনজন অভিজ্ঞ উদ্যোক্তা রয়েছে। টিম স্পেন্সার, যিনি কোভিড‑১৯ মহামারীর সময় এশিয়ায় ই‑কমার্স স্টার্টআপ মার্কাই চালাতেন, সেখানে হাজারো সরবরাহকারী ও বহু দেশের গ্রাহকের সঙ্গে কাজ করার সময় প্রোকিউরমেন্টের ম্যানুয়াল জটিলতা অনুভব করেন। ২০২৩ সালে মার্কাই বিক্রি করার পর তিনি একই বছর ডিডেরো প্রতিষ্ঠা করেন। লরেঞ্জ প্যালহুবার, যিনি ম্যাকিন্সির প্রোকিউরমেন্ট প্র্যাকটিসে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন, এবং টম পেটিট, যিনি ল্যান্ডিসের প্রাক্তন টেকনিক্যাল কো‑ফাউন্ডার, দুজনেই প্রযুক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খলা ক্ষেত্রে গভীর অভিজ্ঞতা নিয়ে আসেন।
প্রোডাকশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলো সাধারণত ইমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, ফোন কল, পারচেজ অর্ডার এবং প্যাকিং লিস্টের মতো বিভিন্ন চ্যানেলে সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এই তথ্যগুলোকে একত্রে সংগ্রহ ও রেকর্ডে আপডেট করা প্রায়শই হাতে করা কাজের ওপর নির্ভরশীল, ফলে সময়সাপেক্ষ এবং ত্রুটিপ্রবণ হয়। স্পেন্সার উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করা না হলে বড় দলও সফলভাবে কাজ করতে পারে না।
ডিডেরোর প্ল্যাটফর্ম এই বিচ্ছিন্ন যোগাযোগগুলোকে একত্রে সংগ্রহ করে, প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ ও জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় আপডেট ও কাজ সম্পন্ন করে। সিস্টেমটি কোম্পানির বিদ্যমান ERP‑এর উপরে একটি এজেন্টিক এআই স্তর হিসেবে কাজ করে, যা ইনকামিং মেসেজ পড়ে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ডে পরিবর্তন আনে। ফলে মানব কর্মীকে সরবরাহকারী অনুসরণ, ডেটা এন্ট্রি বা পেমেন্ট প্রক্রিয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয় না।
এই রাউন্ডের মূল বিনিয়োগকারী কেমিস্ট্রি এবং হেডলাইন, যারা প্রযুক্তি স্টার্টআপে সক্রিয়ভাবে বিনিয়োগ করে। মাইক্রোসফটের ভেঞ্চার ফান্ড M12-ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এআই ও ক্লাউড সেবা ক্ষেত্রে ডিডেরোর কৌশলগত পার্টনারশিপকে শক্তিশালী করেছে। তহবিলের অংশটি পণ্য উন্নয়ন, গ্রাহক সাপোর্ট ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হবে।
ডিডেরোর এআই স্তরটি ERP‑এর সাথে রিয়েল‑টাইমে সংযুক্ত হয়, ফলে নতুন অর্ডার, পরিবর্তিত শর্তাবলী বা পেমেন্ট স্ট্যাটাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে প্রতিফলিত হয়। ব্যবহারকারীকে শুধু প্রয়োজনীয় তথ্য ইনপুট করতে হয়; বাকি সব কাজ এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করে। এই পদ্ধতি প্রোকিউরমেন্টের শেষ থেকে শেষ পর্যন্ত প্রক্রিয়াকে একক ক্লিকে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখে, যা ঐতিহ্যগতভাবে বহু ধাপ ও মানব হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছিল।
বাজারে ইতিমধ্যে লেভেলপাথ, জিপ এবং ওরো ল্যাবসের মতো এআই‑চালিত ক্রয় সমাধান রয়েছে, তবে সেগুলো মূলত কর্পোরেট পঞ্চায়েতের অভ্যন্তরীণ ক্রয় প্রক্রিয়ার উপর কেন্দ্রীভূত। ডিডেরো সরবরাহ শৃঙ্খলার পুরো চিত্রকে লক্ষ্য করে, বিশেষ করে উৎপাদনকারী ও ডিস্ট্রিবিউটরদের জন্য উপযোগী। এভাবে এটি গ্লোবাল ট্রেডের মূল যোগাযোগ চ্যানেলগুলোকে একত্রে নিয়ে এসে স্বয়ংক্রিয়তা প্রদান করে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেন, ডিডেরোর সমাধান বড় মাপের উৎপাদন সংস্থার জন্য খরচ কমাতে, লিড টাইম হ্রাস করতে এবং ত্রুটি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট ও অর্ডার ট্র্যাকিং সরবরাহকারীর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করে তুলবে, ফলে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জন করা সম্ভব হবে।
ডিডেরোর প্রতিষ্ঠাতারা ভবিষ্যতে এআই মডেলকে আরও উন্নত করে বহু ভাষা ও স্থানীয় যোগাযোগ চ্যানেল সমর্থন করার পরিকল্পনা করছেন। এভাবে এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকায় বিভিন্ন বাজারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। তহবিল সংগ্রহের পর কোম্পানি ইতিমধ্যে পাইলট প্রকল্প চালু করেছে এবং কয়েকটি বড় উৎপাদন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
সারসংক্ষেপে, ডিডেরোর $30 মিলিয়ন তহবিল সংগ্রহ গ্লোবাল প্রোকিউরমেন্টে এআই‑ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয়তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এই প্রযুক্তি উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলার জটিলতা হ্রাস করে, মানব সম্পদকে কৌশলগত কাজে কেন্দ্রীভূত করতে সহায়তা করবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতি ত্বরান্বিত করবে।



