ঢাকা, আগারগাঁও-এ নির্বাচনী কমিশনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ ও মিডিয়া উভয়ই প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এবং কোনো গোপনীয়তা নেই। এই বক্তব্যের সময় রাত দশটা ত্রিশ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল প্রকাশের কাজ চলছিল।
উদ্দিন ফলাফল ঘোষণার গতি নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, প্রথম দুই ঘন্টায় ৮ শতাংশ ফলাফল এবং পরের দুই ঘন্টায় ২৫ শতাংশ ফলাফল প্রকাশের পেছনে কারণ হল ৪২,৫০০টি ভোটদান কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ক্রমানুসার। ফলাফল সংগ্রহের প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ায় শতাংশে ওঠা-নামা স্বাভাবিক, কোনো গোপন চক্রান্ত নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সবকিছুই গণনা ভিত্তিক এবং তথ্যের প্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল আপডেট হয়।
কমিশন নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সবধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছে, এ কথাটি তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন। দেশের ১.৮ কোটি জনসংখ্যা ও ১.২৭ কোটি ভোটারকে বিবেচনা করে, গণভোটসহ মোট ২ কোটি ব্যালট মুদ্রণ ও বিতরণ করা হয়েছে। এ ধরনের বিশাল কাজের ফলে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা স্বাভাবিক, তবে তা স্বচ্ছতার পথে বাধা নয়।
প্রশাসনিক পরিসরের ব্যাপকতা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রায় ১.৭ মিলিয়ন কর্মী এই নির্বাচন পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ৯ লক্ষজন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য। এ সংখ্যাকে তুলনা করে বলা যায়, অনেক দেশেরই এমন বড় কর্মশক্তি নেই। সকল পক্ষের সহযোগিতায় নির্বাচনকে ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, এ কথায় তিনি মিডিয়া, রাজনৈতিক দল, ভোটার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নাসির উদ্দিন স্বীকার করেন, কোনো নির্বাচন সম্পূর্ণ নিখুঁত হতে পারে না; তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে এই নির্বাচনেও বড় কোনো ত্রুটি ঘটেনি। তিনি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অটুট দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে ভবিষ্যতে আরও উন্নত নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে। এই বক্তব্যের পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষ করেন এবং সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করেন।



