১৯৯৯ সালে জেমস ভ্যান ডার বীক, যিনি তখনই ‘ডসন’স ক্রিক’ এর মাধ্যমে টিন এজের জনপ্রিয়তা অর্জন করছিলেন, ‘Varsity Blues’ ছবিতে ওয়েস্ট কানান হাই স্কুলের কুইন্টারব্যাক জোনাথন মক্সনের ভূমিকায় উপস্থিত হন। মক্সন চরিত্রটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছাত্র, যিনি আইভি লিগের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ একাডেমিক স্কলারশিপে ভর্তি হওয়ার পথে, এবং গেমের সময় বেঞ্চে বসে থাকলেও গোপনে কুর্ট ভোনেগাটের বই পড়তেন।
মক্সনের পারিবারিক পটভূমি ছবিতে ছোট শহরের স্বাভাবিক রঙে চিত্রিত হয়েছে; তার বাবা স্যাম, স্থানীয় ফুটবল দলের কোচের কাছে পরিচিত, তবে তার নিজের স্বপ্ন ফুটবলের বাইরে। স্যামের বড় ছেলে ফুটবলে তেমন আগ্রহ দেখায় না, আর ছোট ছেলে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নমনীয়তা বজায় রাখে। কোচ বাড কিলমার, যাকে ছবিতে ‘কিং অ্যাসহোল’ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, মক্সনকে দলীয় তালিকায় রাখার একমাত্র কারণ হিসেবে স্যামের নিষ্ঠা ও পরিশ্রম উল্লেখ করেন।
মক্সনের শারীরিক ক্ষমতা তার সহপাঠীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি; তার ডানহাতের শক্তি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। তবে ল্যান্স হারবার, যাকে পল ওয়াকার অভিনয় করেছেন, একটি গুরুতর হাঁটু আঘাতের পর মাঠ থেকে সরে যান, ফলে মক্সনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মক্সনের প্রেমিকা জুলস, যাকে অ্যামি স্মার্ট অভিনয় করেছেন, তার ডানহাতের চারপাশে প্রায়ই দেখা যায়, যা তার ব্যক্তিগত ও ক্রীড়া জীবনের মিশ্রণকে তুলে ধরে।
দলীয় প্রয়োজন মেটাতে মক্সনকে হেনরি রোয়েংগার্টেনের (থমাস ইয়ান নিকোলাস) চরিত্রের মতো রূপান্তরিত করা হয়, যিনি ১৯৯৩ সালের ‘Rookie of the Year’ ছবিতে দেখা গিয়েছিলেন। হেনরি’র ক্যাস্ট যখন ছবির শুটিং শেষ করে চলে যায়, তখন মক্সন তার শক্তিশালী আর্ম দিয়ে দলকে সমর্থন করে, যা ছবির নাটকীয় মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই রূপান্তরটি ১৯৯৩ সালের স্পোর্টস ফিল্মের স্মরণীয় দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে নস্টালজিক অনুভূতি জাগায়।
‘Varsity Blues’ এর এই দৃশ্যটি ১৯৯৯ সালের উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের স্বপ্ন ও সংগ্রামকে প্রতিফলিত করে। জেমস ভ্যান ডার বীক, যদিও তার বয়সের চেয়ে বেশি, তবু তরুণ অভিনেতা হিসেবে এই চরিত্রে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অভিনয় করেন, যা তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। ছবির মাধ্যমে ফুটবলের প্রতি শহরের উত্সাহ, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং ব্যক্তিগত স্বপ্নের টানাপোড়েন স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
এই চলচ্চিত্রের প্রকাশের পর থেকে, ভ্যান ডার বীক তার টেলিভিশন ক্যারিয়ার চালিয়ে গেছেন, তবে ‘Varsity Blues’ তার চলচ্চিত্র জগতে একটি স্মরণীয় স্থান দখল করে রেখেছে। ছবির কাহিনী এবং চরিত্রগুলো আজও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আলোচিত হয়, বিশেষ করে যারা ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে উচ্চ বিদ্যালয়ের দিনগুলি স্মরণ করে।
সারসংক্ষেপে, ১৯৯৯ সালে জেমস ভ্যান ডার বীক ‘Varsity Blues’ এ যে উচ্চ বিদ্যালয়ের কুইন্টারব্যাকের ভূমিকা পালন করেছেন, তা তার নিজের তরুণ বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তবু তার অভিনয় দক্ষতা ও চরিত্রের গভীরতা দর্শকদের কাছে প্রভাবশালীভাবে পৌঁছেছে। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া সংস্কৃতি, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত স্বপ্নের সংযোগকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা আজও বিনোদন ও সংস্কৃতির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে।



