লাল বামণ LHS 1903, যা সূর্যের অর্ধেক ভরবিশিষ্ট এবং প্রায় ১১৬ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত, তার চারটি উপগ্রহের বিন্যাস সাম্প্রতিক গবেষণায় অপ্রত্যাশিত রূপে প্রকাশ পেয়েছে। এই নক্ষত্রের চারটি গ্রহের কক্ষপথ ৩০ দিনের কম সময়ে সম্পন্ন হয় এবং তাদের ব্যাসার্ধ প্রায় ১.৪ থেকে ২.৫ গুণ পৃথিবীর সমান, যা সুপার‑আর্থ ও মিনি‑নেবিউটনের সীমানায় পড়ে।
বৈজ্ঞানিক দলগুলো লক্ষ্য করেছে যে নক্ষত্রের কাছ থেকে দূরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রহগুলোর গঠন পরিবর্তিত হয়েছে: প্রথমটি পাথরীয়, পরের দুটি গ্যাসীয় স্তরে আবৃত, আর শেষটি আবার পাথরীয়। এই “রক‑গ্যাস‑গ্যাস‑রক” ধাঁচের বিন্যাস প্রচলিত গ্রহ গঠন তত্ত্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, যেখানে সাধারণত পাথরীয় গ্রহ নক্ষত্রের নিকটে এবং গ্যাসীয় গ্রহ দূরে থাকে।
এই অস্বাভাবিক কাঠামো নির্দেশ করে যে LHS 1903‑এর সিস্টেমে কোনো ধাক্কা বা সংঘর্ষ ঘটতে পারে, যা গ্রহগুলোর অবস্থানকে উল্টে দিতে সক্ষম। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে তরুণ গ্রহীয় সিস্টেমে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে পারে এবং এই উদাহরণটি গ্রহ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করতে পারে।
LHS 1903‑এর গ্রহগুলো প্রথমবার টেস (TESS) উপগ্রহের মাধ্যমে ২০১৯ সালে সনাক্ত হয়। তার পর বিভিন্ন মহাকাশ ও ভূ-ভিত্তিক টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্রহগুলোর ভর ও ঘনত্ব নির্ধারিত হয়েছে, যা তাদের গঠন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়। ঘনত্বের বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় যে শেষ গ্রহটি পাথরীয়, যদিও তার নিকটবর্তী দুটি গ্রহ গ্যাসীয় আবরণে মোড়া। এই বৈপরীত্য গ্রহ গঠনের প্রচলিত মডেলকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
গ্রহ গঠন তত্ত্ব অনুযায়ী, তরুণ নক্ষত্রের চারপাশে ধূলিকণা ও গ্যাসের ডিস্ক থেকে গ্রহ তৈরি হয়। নিকটবর্তী অঞ্চলে তীব্র রেডিয়েশন ও তাপের কারণে হালকা গ্যাস দ্রুত উড়ে যায়, ফলে পাথরীয় গ্রহ গড়ে ওঠে। দূরের অংশে গ্যাসের ঘনত্ব বেশি থাকে, যা বৃহৎ গ্যাসীয় গ্রহের জন্মে সহায়তা করে। LHS 1903‑এর প্রথম তিনটি গ্রহ এই ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে চতুর্থটি এই ধারার বাইরে।
এই অস্বাভাবিকতা বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন যে সিস্টেমের প্রারম্ভিক পর্যায়ে কোনো বড় সংঘর্ষ বা গ্যাস্ট্রোনোমিক ঘটনা ঘটতে পারে, যা গ্রহগুলোর কক্ষপথ ও গঠনকে পরিবর্তন করেছে। এমন একটি দৃশ্য ভবিষ্যতে অন্যান্য অস্বাভাবিক গ্রহীয় সিস্টেমের অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র সরবরাহ করতে পারে।
এই গবেষণার ফলাফল ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বিজ্ঞান জার্নাল “সায়েন্স”-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং গ্রহ গঠন তত্ত্বের পুনঃমূল্যায়নের দরকারীয়তা তুলে ধরেছে। গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও সিমুলেশন চালিয়ে এই ধরনের সিস্টেমের গঠন প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট করা উচিত।
আপনার কি মনে হয়, এমন অস্বাভাবিক গ্রহীয় বিন্যাস কি আমাদের মহাবিশ্বের গঠন সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করবে? ভবিষ্যতে আরও গবেষণা এই রহস্যের উত্তর দিতে পারে।



