বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি তৃতীয় সপ্তাহ থেকে চারটি দলের নিয়ে ৫০‑ওভার ফরম্যাটে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বেসি লিগ) অনুষ্ঠিত হবে। এই টুর্নামেন্টটি পাকিস্তানের সঙ্গে মার্চ মাসে নির্ধারিত তিনটি ওডিআই সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। ওডিআই সিরিজের পর, উভয় দল মে মাসে দু’টি টেস্ট ম্যাচের জন্য আবার মুখোমুখি হবে।
প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিকল্পনা ছিল ফেব্রুয়ারি মাসে আন্ডার‑২৩ একদিনের বেসি লিগ আয়োজনের, যাতে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ খেলোয়াড়দের বিকাশে সহায়তা করা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে টুর্নামেন্ট কমিটি থেকে প্রস্তাবিত আন্ডার‑২৩ সংস্করণটি অন্য কোনো উপযুক্ত সময়ে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে, একই সময়ে বয়স্ক খেলোয়াড়দের নিয়ে একদিনের বেসি লিগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বেসি লিগ টুর্নামেন্ট কমিটির ব্যবস্থাপক আবু এমাম মোহাম্মদ কাওসার বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রথমে আমরা ফেব্রুয়ারিতে আন্ডার‑২৩ বেসি লিগের পরিকল্পনা করেছিলাম, তবে ক্রিকেট অপারেশনসের নির্দেশে দেখা গেছে, আমাদের বয়স্ক খেলোয়াড়দের মাঠে উপস্থিতি প্রয়োজন, কারণ বাংলাদেশ টিকটক বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ করছে না এবং মার্চে পাকিস্তানের সঙ্গে ওডিআই সিরিজ রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সেইজন্য আমরা ফেব্রুয়ারিতে বয়স্ক খেলোয়াড়দের নিয়ে একদিনের বেসি লিগ চালু করছি, আর আন্ডার‑২৩ সংস্করণটি পরে উপযুক্ত সময়ে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
প্রস্তাবিত সূচি অনুসারে, বেসি লিগের প্রথম রাউন্ড ২২ বা ২৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে, এবং ফাইনাল ম্যাচটি মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টুর্নামেন্টের প্রথম তিন রাউন্ড রাজশাহী ও বগুড়া শহরে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শেষ রাউন্ডের ফাইনাল ম্যাচ ঢাকার মিরপুরের শের‑এ‑বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
বেসি লিগের পাশাপাশি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী চার দিনের বেসি লিগের দুই রাউন্ডও শীঘ্রই আয়োজনের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এই রাউন্ডগুলোর নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে তা দেশের দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটের প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেসি লিগের এই পরিবর্তনটি পাকিস্তানের সঙ্গে ওডিআই সিরিজের আগে বয়স্ক খেলোয়াড়দের ম্যাচ অভিজ্ঞতা বাড়ানোর লক্ষ্যকে সামনে রাখে। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারফরম্যান্সের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই উদ্যোগটি দেশের অভ্যন্তরীণ ক্রিকেট কাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি, আসন্ন আন্তর্জাতিক সিরিজের জন্য দলকে প্রস্তুত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। টুর্নামেন্টের সফলতা এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও আন্ডার‑২৩ ও চার দিনের বেসি লিগের সময়সূচি নির্ধারিত হবে।



