ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে, ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সারাদেশে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে।
কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অন্যান্য সকল অংশগ্রহণকারী সহযোগিতা প্রদান করেছে, যার জন্য কমিশন গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব পালনকারী সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যমের কর্মী এবং ভোটারসহ সাধারণ জনগণকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। এই সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা নির্বাচনকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দেশের সকল মসজিদে জুমা নামাজের সময় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছে। এই দোয়া দেশের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য নিবেদিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মসজিদ ছাড়াও, অন্যান্য উপাসনালয়গুলোকে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনা আয়োজনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কমিশন উল্লেখ করেছে যে, ধর্মীয় সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা জাতীয় ঐক্য ও শান্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাছাই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা নিয়ে কমিশন সন্তোষ প্রকাশ করেছে। নির্বাচনের সময় কোনো উল্লেখযোগ্য অশান্তি বা হিংসা ঘটেনি, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের স্বাস্থ্যের ইঙ্গিত দেয়।
প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু নেতাও নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তারা কমিশনের পেশাদারিত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মসৃণ চলাচলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা আহ্বান দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশের একটি সাংস্কৃতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সরকার গঠনের ভিত্তি হবে, এবং নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য মডেল হিসেবে কাজ করবে। সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দল একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করবে, যা দেশের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভবিষ্যতেও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তদারকি ও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখতে কমিশন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে।
সারসংক্ষেপে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সকল অংশগ্রহণকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে, দেশের শান্তি ও উন্নয়নের জন্য শুক্রবার বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে। এই আহ্বান দেশের ঐক্যবদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



