ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলায় পোস্টম্যান কোনো গাড়ি না পেয়ে হেঁটে ও রিকশা চেপে মোট ৫৭ কিলোমিটার অতিক্রম করে শেষ মুহূর্তে পোস্টাল ব্যালট সরবরাহ করেন। নির্বাচনের শেষ সময়ের মাত্র তিন মিনিট আগে তিনি পোস্ট অফিসে পৌঁছে, এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ব্যাগটি পোস্টমাস্টার সুদীপ ঘোষের হাতে হস্তান্তর করা হয়। ঘোষ ব্যাগটি সঙ্গে সঙ্গে জেলা কমিশনারের অফিসে পৌঁছে দেন, যখন ঘড়ির কাটায় বিকেল চারটায় অর্ধ ঘন্টা বাকি ছিল।
এই ঘটনাটি নির্বাচন কমিশনের আউট‑অফ‑কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (OSVI‑SDI) প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, হালুয়াঘাটে ময়মনসিংহ রিটার্নিং অফিসারদের কাছে তিনটি হলুদ খাম ছিল, যা পোস্টম্যানের দ্রুত গমন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। পোস্টম্যানের যাত্রা হেঁটে ও রিকশা দিয়ে করা সত্ত্বেও তিনি ঠিক ৪ ঘণ্টা ২৭ মিনিটে ময়মনসিংহ পোস্ট অফিসে পৌঁছান, যা সময়সীমা মেনে চলার একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটে দেশীয় ও বিদেশী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট ব্যবহৃত হয়েছে। মোট ১১,৩৩,৮৪৫ ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে ৭,৬৬,৮৬২টি ব্যালট বিদেশে বসবাসকারী ভোটারদের কাছে পাঠানো হয়। বিদেশে ভোটদান শেষে ৪,৯৮,৫২৬৬ ভোটার তাদের ব্যালট দেশে ফেরত পাঠিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন, আর রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে মোট ৪,৯৫,৫৫১টি ব্যালট পৌঁছেছে।
দেশের অভ্যন্তরে ৭,৬০,৮৯৮ ভোটারকে ব্যালট পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৬,৪৮,২৯৪জন তাদের ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে ভোটদান সম্পন্ন করেছেন। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানকারী মোট নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১৫,৩৩,০০০, যা নির্বাচনের ব্যাপ্তি ও অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সহায়তা করেছে। এছাড়া, সরকারী কর্মী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং কারাগারভুক্তদেরও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি প্রকাশ করে।
ভোটদান সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে চারটায় শেষ হয়েছে। পোস্টাল ব্যালটের সংগ্রহ, প্রেরণ ও গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া এই সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ভোট গণনা চলছে, এবং পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল চূড়ান্ত ফলাফলে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা নজরদারির বিষয়।
পোস্টম্যানের এই অদম্য প্রচেষ্টা নির্বাচন কমিশনের পোস্টাল ভোটিং সিস্টেমের কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করেছে। হালুয়াঘাটের মতো সীমান্তবর্তী এলাকায় অবকাঠামোর ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও, পোস্টম্যানের ব্যক্তিগত ত্যাগ ও দ্রুত গমন ভোটারদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে, পোস্টাল ব্যালটের গণনা ফলাফল পার্টি ও প্রার্থীদের কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যেসব এলাকায় পোস্টাল ভোটের অনুপাত বেশি।
এই ঘটনাটি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়মত সম্পন্ন করার প্রচেষ্টার একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানকারী নাগরিকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, পোস্টাল ভোটের প্রভাব বিশ্লেষণ করে পরবর্তী নির্বাচনী সংস্কারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হবে।



