লক্ষ্মীপুরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিন, ভোটের সময় কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে নারীসহ অন্তত বারোজন আহত হয়েছেন। ভোটগ্রহণ ৪৯৬টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়, মোট নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১৬ লাখ ৫ হাজার ১২১।
সকালবেলা ভোটারদের আগমন শুরু হয়, প্রথমে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি ছিল, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি কমে যায়। বিকাল পর্যন্ত ভোটের ৫১ শতাংশ কাস্টিং হয়েছে বলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুর রশিদ জানিয়েছেন, তবে শেষ পর্যন্ত কত শতাংশ ভোট গোনা হবে তা নির্ধারণে আরও সময় লাগবে।
ভোটের সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, বিশেষত বিজয়নগর উচ্চ বিদ্যালয়, পৌর শহিদ স্মৃতি একাডেমি, আদিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দত্তপাড়া বড়ালিয়া কেন্দ্রের চারপাশে পৃথকভাবে হামলা, সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া দেখা যায়। এই ঘটনাগুলোতে আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
আবদুর রশিদ উল্লেখ করেন, বিকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম ছিল, ফলে কিছু শতাংশ ভোটের যোগ হতে পারে। তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো এই ঘটনার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত তদারকি দাবি করেছে। কিছু দল বলেছে, ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে উপস্থিতি বাড়িয়ে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, অন্যদিকে কিছু দল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রশংসা করেছে।
এই ঘটনার পর, নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে। ভবিষ্যতে ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগে সকল প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়া নিশ্চিত করা হবে।
সংঘর্ষের ফলে আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে চিকিৎসা চলমান। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং পরিবারগুলোকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে।
বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের পর, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগে সকল অভিযোগ ও আপত্তি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।
এই ঘটনার প্রভাব নির্বাচনী পরিবেশে সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে এবং ভবিষ্যতে ভোটের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ফলাফল নিয়ে আলোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।



