বৃহস্পতিবার বিকেল বেলা আড়াইটার সময় ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় মেদুয়ারী ইউনিয়নের লেহাবৈ বরাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটকেন্দ্রে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। একদল তরুণ ভোটার কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করে, পাঁচজন একসাথে একটি বুথে গিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মারতে শুরু করে। ঐ মুহূর্তে বুথে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মী উপস্থিত না থাকায় কাজটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে চালিয়ে যায়।
ঘটনা ঘটার পর দ্রুতই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা ব্যালট পেপারগুলো সংগ্রহ করেন এবং সংশ্লিষ্ট দলিলগুলো সংরক্ষণ করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, কোন প্রার্থীর সমর্থক এই কাজটি করেছে তা এখনও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং ফলাফল জানার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বুথে সিল মারার কাজটি সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভোটগ্রহণ পুনরায় চালু করা হয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে। এই সময়ে কোনো বিশাল বিশৃঙ্খলা বা জনসমাগমের ঘটনা রেকর্ড করা যায়নি।
ঘটনার পর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়ে পদত্যাগ করেন। এই পদক্ষেপটি ভোটের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে বলা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পরিবর্তে নতুন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে।
ময়মনসিংহ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান ঘটনাটির পর্যালোচনা করে কয়েকজনকে শাস্তি প্রদান করার কথা জানান। শাস্তি প্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও শাস্তির প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
শাসনকর্তা আরও উল্লেখ করেন, সিল মারার কাজটি কোন রাজনৈতিক প্রতীকে করা হয়েছে তা নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলছে। এই তদন্তের ফলাফল ভোটের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা তা নির্ণয় করা হবে।
বিচ্ছিন্ন কয়েকটি অনুরূপ ঘটনা বাদে জেলায় ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণের সময়সূচি কোনো বড় পরিবর্তন ছাড়াই চলেছে এবং ভোটারদের অংশগ্রহণের হার ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশের মধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ভবিষ্যতে এমন অনুরূপ ঘটনা রোধে ভোটকেন্দ্রের কর্মী উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রোটোকল আপডেট করা হবে।
এই ঘটনার পর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর জনমত কিছুটা ক্ষীণ হয়েছে, তবে প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগে সকল প্রমাণাদি ও তদন্তের রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা হবে।
অবশিষ্ট সময়ে ভোটগ্রহণ চলমান থাকায় ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সকল ভোটকেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করতে হবে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।



