ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সহ-মালিক জিম র্যাটক্লিফের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত মন্তব্যের পর, ক্লাব একটি সরকারি বিবৃতি দিয়ে তাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক মূল্যবোধ পুনরায় নিশ্চিত করেছে। র্যাটক্লিফের কথায় যুক্তরাজ্যকে অভিবাসীদের দ্বারা “উপনিবেশিত” বলা হয়েছিল এবং তিনি দেশের জনসংখ্যা ও কল্যাণ ব্যবস্থার ওপর ভুল তথ্য উপস্থাপন করেন। এই মন্তব্যগুলো সামাজিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে, যার ফলে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (FA) বিষয়টি তদন্তের ঘোষণা দেয়।
র্যাটক্লিফের মন্তব্যের পর, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রকাশ্য বিবৃতি সরাসরি তার নাম উল্লেখ না করেও স্পষ্টভাবে তার দাবিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে। ক্লাব জানায় যে তারা “সমতা, বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তি”র প্রতি অটুট প্রতিশ্রুতি বজায় রাখে এবং ম্যানচেস্টারকে “যে কোনো ব্যক্তি ঘরে ফিরে আসতে পারে এমন শহর” হিসেবে বর্ণনা করে। এই বক্তব্যে ক্লাবের বৈশ্বিক সমর্থক গোষ্ঠী, খেলোয়াড় ও কর্মীদের বৈচিত্র্যময় গঠনকে শহরের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০১৬ সালে চালু করা “All Red All Equal” ক্যাম্পেইন থেকে ক্লাবের নীতি গড়ে উঠেছে। সেই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য ছিল সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং তা ক্লাবের সব কার্যক্রমে সংহত করা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দাবি করে যে এই নীতি তাদের দৈনন্দিন কাজের ভিত্তি এবং তারা এই নীতির আত্মা ও নীতিমালা রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
FA র্যাটক্লিফের মন্তব্যকে “গেমের খ্যাতি ক্ষুন্ন করা” হিসেবে বিবেচনা করে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। এই তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী ক্লাবের সহ-মালিকের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। FA এই ধরনের প্রকাশকে ক্রীড়া জগতের নৈতিক মানদণ্ডের বিরুদ্ধে বলে গণ্য করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।
র্যাটক্লিফের পক্ষ থেকে পরে একটি ক্ষমা প্রার্থনা প্রকাশিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে তার ভাষা নির্বাচন কিছু মানুষকে আঘাত করেছে এবং তিনি তার কথার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন। তবে এই ক্ষমা প্রার্থনা কিছু সমালোচককে সন্তুষ্ট করতে পারেনি, কারণ তার মূল বক্তব্যে ব্যবহৃত শব্দ ও তথ্যের ভুলতা এখনও বিতর্কের বিষয়।
র্যাটক্লিফের মন্তব্যের পর ক্রীড়া সংস্থা, রাজনীতিবিদ এবং অন্যান্য পাবলিক ব্যক্তিত্ব একসাথে নিন্দা জানায়। তারা উল্লেখ করে যে এমন রকমের ভাষা ঐতিহাসিকভাবে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক বর্ণনা তৈরি করেছে এবং তা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই নিন্দা প্রকাশের মাধ্যমে তারা ক্লাব ও র্যাটক্লিফের উভয়েরই দায়িত্বকে তুলে ধরেছে।
শো রেসিজম দ্য রেড কার্ড (Show Racism the Red Card) সংস্থা পূর্বে একটি বিবৃতি দিয়ে র্যাটক্লিফের ভাষাকে ঐতিহাসিকভাবে ব্যবহৃত স্টিগমাটাইজিং বর্ণনার সঙ্গে তুলনা করে। সংস্থাটি উল্লেখ করে যে এমন ধরনের ভাষা পূর্বে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যকে উস্কে দিয়েছে এবং তা সমাজে ক্ষতিকারক ধারনা তৈরি করে। এই মন্তব্যগুলো র্যাটক্লিফের প্রকাশের পর দ্রুতই প্রকাশিত হয়।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিবৃতি আবারও তাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির প্রতি অটল থাকা জোর দেয়। ক্লাবের মতে, তাদের খেলোয়াড়, স্টাফ এবং ভক্তদের বৈচিত্র্যই ম্যানচেস্টারের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে এবং এই বৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করা তাদের মূল দায়িত্ব। তারা উল্লেখ করে যে “All Red All Equal” ক্যাম্পেইন থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিত্তি।
FA-এর তদন্তের ফলাফল এখনও অজানা, তবে ক্লাবের নেতৃত্ব ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে যে তারা কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক মন্তব্যকে সহ্য করবে না। এই অবস্থান ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদী নীতি ও সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। র্যাটক্লিফের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য শাস্তি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সামনে প্রকাশিত হবে।
সারসংক্ষেপে, জিম র্যাটক্লিফের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্যের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক মূল্যবোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং FA-কে তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করেছে। ক্লাবের বিবৃতি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিন্দা একসাথে এই বিষয়কে ক্রীড়া ও সমাজের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত করেছে। ভবিষ্যতে ক্লাবের নীতি ও কার্যক্রমে এই মূল্যবোধের প্রয়োগ কিভাবে অব্যাহত থাকবে, তা নজরে থাকবে।



