দেড় বছর আগে জুলাইতে গণঅভ্যুত্থান ঘটার পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংশোধনী প্রশ্নে গণভোট জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণের কাজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭:৩০ টা থেকে বিকাল ৪:৩০ টা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলে।
ভোটের সময় কোনো বড় গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি; শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে ভোটের দিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও গাইবান্ধা জেলায় মোট ছয়জনের মৃত্যু ঘটেছে। পাঁচজনের মৃত্যু অসুস্থ বোধ করার পর, আর একজনের ওপর ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের কয়েকটি কেন্দ্র থেকে ‘ভোটগ্রহণে বিশৃঙ্খলা’র অভিযোগ জানানো হয়। এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) উল্লেখ করে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সন্তোষজনক ছিল, তবে তার পর দেশব্যাপী বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যায়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও ভোটের সময় অনিয়মের অভিযোগ তুলে দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সব অভিযোগের পরও আশঙ্কাজনক কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ায়, কোনো কেন্দ্র স্থগিত না করা এবং ভোট প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চলার কথা নিশ্চিত করেছে।
এই নির্বাচনে ৫০টি দল অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মোট ২০২৮ প্রার্থী ২৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত ৪৮টি ধারা জনগণের সম্মতি নেওয়া হয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন, যার মধ্যে ১০,৭৩,৪৯৭টি পোস্টাল ব্যালট গণনা করা হয়েছে।
লালমনিরহাট-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আসাদুল হাবীব দুলু ১,৩৮,৬৯১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত-এ-ইসলামির আবু তাহের (দাঁড়িপাল্লা) ৫৫,৬৭১ ভোট সংগ্রহ করেন।
পটুয়াখালী-৩ আসনে ১২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮০টি কেন্দ্রের ফল প্রকাশিত হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের মো. নুরুল হক নুর ৭৩,৯৩৪ ভোটে বিজয়ী হন, আর স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন ঘোড়া ৪৭,৯৩০ ভোট পেয়েছেন।
বান্দরবানে ১৮৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯০টি কেন্দ্রের ফল প্রকাশিত হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি-র সাচিং প্রু ৬০,৭৯৪ ভোটে জয়ী, আর এনসিপি-র আবু সাঈদ মো. সুজা উদ্দিন শাপলা কলি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, তবে তার ভোটের সংখ্যা এখনও প্রকাশিত হয়নি।
এই নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট ও জামায়াত-এ-ইসলামি ১১ দলীয় জোটের মধ্যে হয়েছে। উভয় জোটের জন্য ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণার পর পরবর্তী ধাপ হিসেবে অবশিষ্ট কেন্দ্রের ফল প্রকাশের অপেক্ষা করছে এবং শেরপুর-৩ আসনের পুনরায় ভোটের সময়সূচি নির্ধারণের কাজ চলছে।



