ইংলিশ ফুটবলের লিগ টুতে বার্নেটের প্রধান কোচ ডিন ব্রেনানকে ফিফা ন্যায়বিচারিক কমিশন ন্যায় লিঙ্গভিত্তিক মন্তব্যের জন্য নয়টি ম্যাচের টাচলাইন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি শ্রীশ্রাবণ ২০২৫ সালে শ্রুয়েসবেরি টাউনকে বিপক্ষে খেলা সময়ে ঘটিত ঘটনার পর নেওয়া হয়েছে।
ব্রেনানকে শ্রীশ্রাবণ ৬ তারিখে শ্রুয়েসবেরি টাউনের বিরুদ্ধে খেলা চলাকালে রেফারী কির্স্টি ডাউলে-কে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করার অভিযোগে ফিফা নিয়ম E3.1 লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। ম্যাচের প্রথমার্ধের মাঝামাঝি ডাউনলে ব্রেনানকে ডিসসেন্টের জন্য সাদা কার্ড দেখিয়ে বের করে দেয়া হয়, যার পর কোচের উত্তেজনা বাড়ে এবং রেফারীকে লিঙ্গভিত্তিক অপমানজনক মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ফিফা স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কমিশন ঘটনাটি তদন্ত করে এবং ব্রেনানকে দোষী সাব্যস্ত করে। কমিশন জানায় যে কোচের আচরণ রেফারীকে অবমাননা করে এবং ফুটবলের ন্যায়সঙ্গত পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করে। ফলস্বরূপ, ব্রেনানকে নয়টি ম্যাচের টাচলাইন নিষেধাজ্ঞা, £২,০০০ জরিমানা এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম সম্পন্ন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্রেনানের বিরুদ্ধে আরোপিত জরিমানার পাশাপাশি, ফিফা তাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লিগের সব অফিসিয়াল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখবে। জরিমানা এবং শাস্তি উভয়ই ফিফার নিয়মাবলীর কঠোর প্রয়োগের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, যা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ও অপমানজনক আচরণকে শূন্য সহ্য করে না।
ফিফা একটি ঘোষণায় উল্লেখ করেছে, “ডিন ব্রেনানকে লিগ টু ম্যাচে রেফারী কির্স্টি ডাউলে-কে লিঙ্গভিত্তিক অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করার জন্য নিয়ম E3 লঙ্ঘনের শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।” এই বিবৃতি থেকে স্পষ্ট যে শাস্তি শুধুমাত্র শাস্তিমূলক নয়, বরং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধের জন্য শিক্ষামূলক দিকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
ব্রেনান শুরুর দিকে এই অভিযোগের বিরোধিতা করেন এবং দাবি করেন যে তিনি কোনো লিঙ্গভিত্তিক মন্তব্য করেননি। তবে স্বাধীন কমিশনের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে তার মন্তব্য রেফারীর প্রতি অনুপযুক্ত ও অপমানজনক ছিল, ফলে তার অস্বীকারের পরেও শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে।
এই শাস্তি ইংলিশ ফুটবলে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, কারণ ডিন ব্রেনান প্রথম কোচ যিনি রেফারীর প্রতি লিঙ্গভিত্তিক মন্তব্যের জন্য নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন। পূর্বে এমন কোনো শাস্তি কোচদের জন্য দেওয়া হয়নি, যদিও খেলোয়াড় ও সহকারী রেফারীকে একই রকম অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
সদৃশ একটি ঘটনা ২০২২ সালে বারো দলের কোচ মার্ক কোপারকে ঘটেছিল। কোপারকে আটটি ম্যাচের টাচলাইন নিষেধাজ্ঞা এবং জরিমানা আরোপ করা হয়েছিল, কারণ তিনি সহকারী রেফারী হেলেন এডওয়ার্ডসের প্রতি লিঙ্গ উল্লেখ করে অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। এই পূর্বের শাস্তি ব্রেনানের শাস্তির সঙ্গে তুলনা করা হয়, তবে ব্রেনানকে প্রথম কোচ হিসেবে লিঙ্গভিত্তিক মন্তব্যের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
শ্রুয়েসবেরি টাউনের বিরুদ্ধে বার্নেটের ম্যাচে দলটি পরাজিত হয়, যা শাস্তির পটভূমি আরও জোরদার করে। ম্যাচের ফলাফল এবং কোচের আচরণ উভয়ই ক্লাবের জন্য বড় ধাক্কা, কারণ শাস্তি দলের কৌশলগত পরিকল্পনা ও সাফল্যকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।
নিয়মিত লিগ টু সূচিতে বার্নেটের পরবর্তী কয়েকটি ম্যাচের তারিখ এখনও নির্ধারিত, তবে ব্রেনানের নিষেধাজ্ঞা তার উপস্থিতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করবে। ক্লাবের সহায়ক স্টাফ ও সহকর্মী কোচদের উপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হবে, যাতে দলটি শাস্তির সময়েও প্রতিযোগিতামূলকভাবে খেলতে পারে।
বাধ্যতামূলক শিক্ষামূলক প্রোগ্রামটি ফিফা কর্তৃক নির্ধারিত, যেখানে লিঙ্গ সমতা, রেফারী সম্মান এবং খেলাধুলার নৈতিকতা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই প্রোগ্রামটি কোচকে ভবিষ্যতে অনুরূপ ভুল এড়াতে এবং ফুটবলের পরিবেশকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ডিন ব্রেনানের বিরুদ্ধে আরোপিত নয়টি ম্যাচের টাচলাইন নিষেধাজ্ঞা, £২,০০০ জরিমানা এবং শিক্ষামূলক শর্তাবলী ইংলিশ ফুটবলে লিঙ্গভিত্তিক অপমানজনক মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি প্রয়োগের উদাহরণ। এই শাস্তি ক্লাব, কোচ এবং পুরো লিগের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, যাতে ভবিষ্যতে রেফারী ও সহকারী রেফারীর প্রতি সম্মান বজায় রাখা যায়।



