ফুসফুসের অগ্রগামী ক্যান্সার রোগে ইমিউন থেরাপি কখন দেওয়া হয় তা রোগীর বেঁচে থাকার সময়ে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য আনতে পারে, এ বিষয়ে ২১০ রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি র্যান্ডমাইজড ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল নতুন প্রমাণ উপস্থাপন করেছে। গবেষণাটি ফেব্রুয়ারি ২ তারিখে নেচার মেডিসিনে প্রকাশিত হয় এবং প্রথমবারের মতো ইমিউন চেকপয়েন্ট ইনহিবিটর ও প্রচলিত কেমোথেরাপি একসাথে ব্যবহার করে সময়ের প্রভাব পরীক্ষা করেছে।
সার্কেডিয়ান রিদম, অর্থাৎ মানবদেহের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি, কীভাবে ক্যান্সার চিকিৎসার কার্যকারিতা নির্ধারণ করে তা বহু বছর ধরে অনুমান করা হয়, তবে কঠোর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা আগে খুব কমই করা হয়েছে। পূর্বের গবেষণাগুলো রোগীর রেকর্ডের রেট্রোস্পেকটিভ বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করত, যেখানে কাজের সময়সূচি, ভ্রমণ দূরত্ব এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা মতো বিষয়গুলো ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারত।
এই নতুন গবেষণায় রোগীদের দুটো গ্রুপে ভাগ করা হয়েছিল; একদলকে সকাল থেকে মধ্যাহ্নের মধ্যে প্রথম চার সাইকেল ডোজ দেওয়া হয়, আর অন্যদলকে বিকাল বা সন্ধ্যার পরে একই ডোজ প্রদান করা হয়। উভয় গ্রুপের রোগীরা একই ধরণের চেকপয়েন্ট ইনহিবিটর এবং কেমোথেরাপি পেয়েছে, ফলে কেবলমাত্র থেরাপির সময়ের পার্থক্যই ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারত।
ফলাফল দেখায় যে, প্রথম চার সাইকেল সকালে নেওয়া রোগীরা টিউমার বৃদ্ধি না হওয়া বা ছড়িয়ে না পড়ার সময় প্রায় দ্বিগুণ বেশি পেয়েছে। গড়ে, এই গ্রুপের রোগীরা প্রায় ১১ মাস পর্যন্ত রোগের অগ্রগতি না দেখায়, যেখানে দেরিতে থেরাপি নেওয়া গ্রুপের গড় সময় মাত্র ৬ মাস।
বেঁচে থাকার সময়ের দিক থেকে পার্থক্য ততটাই স্পষ্ট। সকালবেলা থেরাপি গ্রহণকারী রোগীরা গড়ে প্রায় ২৮ মাস বেঁচে ছিলেন, যেখানে দেরি সময়ে থেরাপি নেওয়া রোগীরা গড়ে ১৭ মাস বেঁচে ছিলেন। অর্থাৎ, সময়ের পার্থক্য রোগীর জীবনের দৈর্ঘ্যকে প্রায় এক বছর পর্যন্ত বাড়িয়ে তুলতে পারে।
একজন ক্যান্সার জীববিজ্ঞানী উল্লেখ করেছেন যে, এই ফলাফলগুলো সার্কেডিয়ান বায়োলজির ক্লিনিক্যাল প্রয়োগের সম্ভাবনা শক্তিশালীভাবে সমর্থন করে। তিনি বলেন, রোগীর শারীরিক ঘড়ি কীভাবে ইমিউন সিস্টেমের কার্যকারিতা এবং টিউমার-নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে, তা এখন স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে।
পূর্বের গবেষণাগুলো যদিও সময়ের প্রভাবের ইঙ্গিত দিয়েছিল, তবে সেগুলো রোগীর দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তনশীলতার কারণে ফলাফলকে মিশ্রিত করত। র্যান্ডমাইজড ডিজাইন এই অনিশ্চয়তাগুলো দূর করে, ফলে সময়ের পার্থক্যই একমাত্র পরিবর্তনশীল হিসেবে কাজ করে।
এই গবেষণার মূল বার্তা হল, ক্যান্সার রোগে ইমিউন থেরাপি পরিকল্পনা করার সময় রোগীর ব্যক্তিগত ঘড়ি বিবেচনা করা উচিত। চিকিৎসকরা রোগীর দৈনন্দিন রুটিন, কাজের সময় এবং শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী থেরাপি সময় নির্ধারণে আরও নমনীয়তা আনতে পারেন।
অধিকাংশ রোগী ও তাদের পরিবার এই ধরনের তথ্যকে স্বাগত জানায়, কারণ এটি চিকিৎসার সময়সূচি নিয়ে নতুন বিকল্প প্রদান করে। তবে বাস্তবে সময়ের পরিবর্তন সব রোগীর জন্য সহজ নাও হতে পারে; কিছু রোগীর কাজের সময়সূচি বা পরিবহন সুবিধা সীমাবদ্ধ হতে পারে।
সুতরাং, রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে থেরাপি সময় নির্ধারণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে আরও বড় স্কেলের গবেষণা এই ফলাফলকে নিশ্চিত করতে পারে এবং সম্ভবত অন্যান্য ক্যান্সার প্রকারে একই ধরনের সময় নির্ধারণের নীতি প্রয়োগ করা যাবে।
এই গবেষণার ভিত্তিতে, রোগীরা কি তাদের থেরাপি সময়সূচি পরিবর্তন করে দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল পেতে পারেন, তা নিয়ে আরও আলোচনা করা দরকার। আপনার মতামত কী? আপনার চিকিৎসা পরিকল্পনায় সময়ের ভূমিকা নিয়ে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।



