মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিনিয়োগকারী কুপ্যাং কোম্পানির ডেটা লিকের পর দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারকে আইএসডিএস (বিনিয়োগকারী‑রাষ্ট্র বিরোধ নিষ্পত্তি) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলা করেছে। তারা দাবি করে যে সরকার ডেটা সুরক্ষা তদন্তে বৈষম্যমূলক আচরণ করে কোম্পানির ক্ষতি করেছে।
কুপ্যাং, যা সিয়াটলে সদর দপ্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও জাপানে সেবা প্রদান করে, ডিসেম্বর মাসে জানিয়েছে যে প্রায় ৩৪ মিলিয়ন কোরিয়ান গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া ডেটার মধ্যে নাম, ইমেইল, ফোন নম্বর, ডেলিভারি ঠিকানা এবং কিছু অর্ডার ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত ছিল, এবং এই লিক পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে চলছিল।
ডেটা লিকের পর কোরিয়ান কর্তৃপক্ষ কঠোর তদন্ত শুরু করে এবং কোম্পানির উপর বড় জরিমানা, সেবা বন্ধের হুমকি এবং নির্বাহীদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা প্রকাশ করে। একই সঙ্গে সরকার জনসাধারণের কাছে তথ্য প্রকাশ সীমিত করার এবং লিকের প্রকৃতি ভুলভাবে উপস্থাপন করার অভিযোগও উঠে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনোয়াক্স ক্যাপিটাল এবং আল্টিমিটার ক্যাপিটাল ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কোরিয়ার বিচার মন্ত্রণালয়ের কাছে নোটিশ জমা দেয়। তারা জানায় যে সরকারী তদন্তের বৈষম্যমূলক স্বভাবের কারণে তারা আর্থিক ক্ষতি ভোগ করেছে এবং কোরিয়া‑মার্কিন ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের অধীনে আইএসডিএস আর্বিট্রেশন চায়।
পরবর্তীতে কোরিয়ার বিচার মন্ত্রণালয় জানায় যে এবিএমস ক্যাপিটাল, ডিউরেবল ক্যাপিটাল পার্টনার্স এবং ফক্সহেভেন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট সহ তিনটি অতিরিক্ত বিনিয়োগকারী এই মামলায় যোগ দিয়েছে। তারা একত্রে সরকারকে কুপ্যাংয়ের প্রতি অবৈধ আচরণ করার অভিযোগে সমর্থন করে।
কোরিয়া‑মার্কিন ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টে নির্ধারিত আইএসডিএস প্রক্রিয়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরকে হোস্ট দেশের সরকারী অবিচার বা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আর্বিট্রেশনে আবেদন করার সুযোগ দেয়।
আইএসডিএস মামলা যদি সফল হয়, তবে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারকে উল্লেখযোগ্য ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে, যা দেশের ডেটা সুরক্ষা নীতি ও নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপের ওপর প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কুপ্যাংয়ের শেয়ার মূল্যে ইতিমধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, এবং বিনিয়োগকারী সম্প্রদায়ে কোরিয়ার ই‑কমার্স সেক্টরের প্রতি সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর ডেটা সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নজরদারি তীব্রতর হওয়ায় বাজারের সামগ্রিক স্বাভাবিকতা প্রভাবিত হতে পারে।
এই বিরোধ ডেটা সুরক্ষা আইন প্রয়োগের কঠোরতা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষার মধ্যে উত্তেজনা প্রকাশ করে। কোরিয়ার পার্সোনাল ইনফরমেশন প্রোটেকশন কমিশনকে ভবিষ্যতে তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে হবে।
ডেটা লিকের ফলে উদ্ভূত এই আন্তর্জাতিক আইনি সংঘাত দেখায় যে সাইবার নিরাপত্তা সমস্যাগুলি আর শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত বিষয়



