ঢাকা-১৩ নির্বাচনী এলাকায় আজ বিকেলে লালমাটিয়া সরকারী মহিলা কলেজ, মোহাম্মদপুরে ভোটদান চলাকালীন এক যুবক ভোটারকে জানানো হয় যে তার ভোট ইতিমধ্যে গোনা হয়েছে। তিনি স্মার্ট ইলেকশন বিডি অ্যাপের মাধ্যমে প্রাপ্ত ভোট সিরিয়াল নম্বর দিয়ে ভোটের কিউতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
ভোটের দিনটি তুলনামূলকভাবে সক্রিয় ছিল, বহু ভোটার লাইন দিয়ে অপেক্ষা করছিলেন এবং ভোটদান প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলছিল। ভোটারটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার সিরিয়াল নম্বর উপস্থাপন করে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
কেন্দ্রের তৃতীয় তলায় উপস্থিত একটি ভোটিং এজেন্ট তার সিরিয়াল নম্বর যাচাই করার পর জানান যে তার ভোট পূর্বে গোনা হয়েছে। এজেন্টটি তৎক্ষণাৎ তিনজন সহকর্মীর সঙ্গে তালিকা পুনরায় পরীক্ষা করেন এবং একই ফলাফল পান।
তদন্তে দেখা যায়, অন্য একজন ব্যক্তি একই পরিচয়পত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটো ব্যবহার করে ভোট দিয়েছেন, যা প্রথম ভোটারকে তৎক্ষণাৎ সন্দেহের মধ্যে ফেলেনি। উভয়ের চেহারার সাদৃশ্যও তালিকায় কোনো অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি করেনি।
প্রেসিডিং অফিসারকে ডাকার পর তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, ভোটারকে পুনরায় ভোট দিতে অনুমতি দেওয়া যাবে না, যদিও তার পরিচয় প্রমাণ সঠিক ছিল এবং সিরিয়াল নম্বর তারই ছিল।
ভোটার বিকল্প খোঁজার জন্য অফিসারের কাছে অনুরোধ করলেও, তিনি কোনো সমাধান দিতে সক্ষম হননি। ফলে ভোটারকে অন্য কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়নি।
একজন সহকর্মীর পরামর্শে তিনি জানেন যে, এমন পরিস্থিতিতে ‘টেন্ডার্ড ব্যালট’ নামে একটি বিকল্প রয়েছে। টেন্ডার্ড ব্যালট হল একটি কনসোলেশন ব্যালট, যা ভোটের রেকর্ড হিসেবে নেওয়া হয়, তবে চূড়ান্ত গণনায় অন্তর্ভুক্ত হয় না।
প্রেসিডিং অফিসার ব্যাখ্যা করেন যে, টেন্ডার্ড ব্যালটের ক্ষেত্রে ভোটারকে স্বাক্ষর, সিল এবং ভাঁজ করে একটি বাদামী খামে প্যাক করে অফিসারকে হস্তান্তর করতে হয়; তবে এই ব্যালটটি ভোটের গোনার অংশে গণনা করা হবে না।
এই ঘটনায় এক নারী ভোটারও একই সমস্যার সম্মুখীন হন; তারও ভোট ইতিমধ্যে গোনা হয়েছে বলে জানানো হয় এবং তিনি একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বাধ্য হন।
এই ধরনের ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রশ্ন তুলছে। নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত তদন্ত করে ভোটার তালিকা ও পরিচয় যাচাই পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। এছাড়া, টেন্ডার্ড ব্যালটের ব্যবহার এবং তার গণনায় অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা জরুরি, যাতে ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করা কোনো অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি না থাকে।



