ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এ ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২৯৯টি সংসদীয় আসনের ফলাফলের জন্য গণনা কাজ শুরু হয়েছে। ভোটদান বৃহস্পতিবার সকাল ৭:৩০ টায় একসঙ্গে শুরু হয়ে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল, এবং কোনো কেন্দ্রে দীর্ঘ সারি থাকলে সময় বাড়িয়ে ভোট নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির শফিকুর রহমান ঢাকা‑১৫ নির্বাচনী কার্যালয়ে একটি ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন, “আমরা চাই সরকার জনগণের হোক, কোনো দল, ব্যক্তি বা পরিবারের নয়; ১৮ কোটি মানুষের জন্য সরকার গড়ে উঠবে”। তিনি এই বক্তব্যটি দুপুর ২ টায় প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে প্রদান করেন।
শফিকুর রহমানের এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ভোটগ্রহণের বাস্তব পরিস্থিতি বিভিন্ন কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। রাজধানীর বছিলা পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিকেল ৪:৫০ টায়ও ভোটদান চলতে দেখা যায়, যদিও কেন্দ্রীয় সময়সূচি বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল।
বছিলা বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় বিশেষভাবে নারীদের জন্য নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রটি দীর্ঘ লাইন দিয়ে ভরা ছিল। বিকেল ৫:১০ টায় সেখানে ৫০ জনের বেশি নারী ভোটারকে ধারাবাহিকভাবে অপেক্ষা করতে দেখা যায়, এবং শেষ পর্যন্ত সকল নারীর ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।
এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৮৩২, যার মধ্যে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত ১,৭৫০ জনের ভোট রেকর্ড হয়েছে। ভোটগ্রহণের হার ৪৫.৬ শতাংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অংশগ্রহণের একটি সূচক।
দুইটি জেলায় ককটেল বিস্ফোরণসহ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করেছে। নির্বাচনের সময় কোনো বড় ধরণের অশান্তি বা ধ্বংসাত্মক হিংসা রিপোর্ট করা হয়নি।
তবে নির্বাচন চলাকালে চারজনের অসুস্থতা থেকে মৃত্যু ঘটেছে, যা নির্বাচন সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সেবার পর্যাপ্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মৃত্যুর কারণের বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি।
রাজনৈতিক দলগুলোও ফলাফল প্রকাশের আগে কিছু অভিযোগ তুলে ধরেছে। কিছু দল ভোটকেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিচালনা, ভোটার তালিকার সঠিকতা এবং ভোটের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
গণনা কাজের সূচনা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ভোটের পাতা সংগ্রহ করে গণনা কেন্দ্রগুলোতে নিয়ে গিয়ে ফলাফল নির্ধারণের প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ একটি বিবৃতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিচালনার জন্য সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি গণভোটকে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, ইউনূসের এই কৃতজ্ঞতা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
গণনা শেষ হয়ে ফলাফল ঘোষণার পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পার্লামেন্টে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে ফিরে আসা হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে।
সামগ্রিকভাবে, ভোটগ্রহণের সময়সূচি, ভোটার উপস্থিতি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শান্তিপূর্ণ পরিবেশের তথ্যগুলো দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে।



