ব্রিটেনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সহ-মালিক সির জিম র্যাটক্লিফ বুধবার ইমিগ্রেশন নিয়ে তার মন্তব্যের ফলে কিছু মানুষকে আঘাত পৌঁছানোর জন্য ক্ষমা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার ব্যবহৃত ভাষা যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের কিছু নাগরিককে বিরক্ত করেছে এবং এই বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত ও সুসংগঠিত অভিবাসন নীতি নিয়ে আলোচনা করা জরুরি।
র্যাটক্লিফের ক্ষমা প্রকাশের সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি দুঃখিত যে তার শব্দচয়ন কিছু মানুষের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য সুশৃঙ্খল অভিবাসন নীতি প্রয়োজন।
বুধবারের তার মূল মন্তব্যে র্যাটক্লিফ যুক্তরাজ্যকে “ইমিগ্রেন্টদের দ্বারা উপনিবেশিত” বলে উল্লেখ করে দেশের আর্থিক বোঝা বাড়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, “নয় মিলিয়ন মানুষ বেনিফিটে এবং বিশাল সংখ্যক অভিবাসী আসার ফলে অর্থনীতি টিকিয়ে রাখা কঠিন।” এই বক্তব্যের পর লেবার পার্টির নেতা স্যার কীয়ার স্টারমার মন্তব্য করেন, র্যাটক্লিফের কথা “অপমানজনক এবং ভুল” হিসেবে।
ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র র্যাটক্লিফের ক্ষমা স্বীকারকে “সম্পূর্ণ সঠিক” বলে উল্লেখ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী অফিসের প্রতিনিধিও স্টারমারের সমালোচনাকে “অপমানজনক এবং ভুল” বলে র্যাটক্লিফের ক্ষমা স্বীকারকে সমর্থন করেন।
উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জানান, অনেক মানুষ র্যাটক্লিফের ব্যবহৃত ভাষা থেকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তিনি সরকারকে ছোট নৌকায় অভিবাসন রোধে প্রচুর কাজ করতে হয়েছে এবং অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবেলায় আরও পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
ইংলিশ ফুটবল ফেডারেশন (FA) র্যাটক্লিফের মন্তব্য গেমের সুনাম ক্ষুন্ন করেছে কিনা তা তদন্তের কথা জানিয়েছে। যদি FA তার নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী র্যাটক্লিফের উপর শাস্তি আরোপ করে, তবে ৭৩ বছর বয়সী এই ধনী ব্যবসায়ী অতিরিক্ত শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।
র্যাটক্লিফের পূর্ববর্তী মন্তব্যে তিনি যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যা পাঁচ বছরে ১২ মিলিয়ন বাড়িয়ে ৭০ মিলিয়ন হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্সের তথ্য অনুযায়ী জনসংখ্যা ৬৬.৭ মিলিয়ন থেকে ৬৯.৪ মিলিয়নে বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থাৎ তিন মিলিয়নেরও কম। এই ভুল তথ্যের কারণে তার বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিষয়টি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। র্যাটক্লিফের মতামত ও ক্ষমা উভয়ই সরকারকে অভিবাসন নীতি কঠোর করার চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে ছোট নৌকায় অনিয়মিত অভিবাসনের মোকাবেলায়। একই সঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মালিকের এই ধরনের মন্তব্য ক্লাবের জনমতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ভবিষ্যতে র্যাটক্লিফের বক্তব্যের ওপর রাজনৈতিক পার্টিগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং FA-র সম্ভাব্য শাস্তি কীভাবে গৃহীত হবে, তা যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি ও ক্রীড়া জগতের সম্পর্ককে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে। এই বিতর্কের ফলাফল সরকারী নীতি গঠনে এবং জনসাধারণের অভিবাসন সম্পর্কে ধারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



