কুমিল্লা জেলায় লালমাই উপজেলায় অবস্থিত চৌদ্দদোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার বিকেলে একদল অননুমোদিত ব্যক্তি প্রবেশ করে ব্যালট চুরি করার চেষ্টা করে, ফলে ৩৮টি সিলমার্ক করা ব্যালট বাতিল করা হয়।
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানান, ঘটনাটি বিকালের সময় ঘটেছে এবং তৎক্ষণাৎ তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
হঠাৎ করে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি ভোটকেন্দ্রের তিনটি কক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ব্যালট সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কাজ শুরু করে। তারা ব্যালটের সিলমার্ক করা কপি চুরি করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল।
তবে তারা সিলমার্ক করা ব্যালটগুলোকে ভোটবক্সে ঢোকাতে পারেনি, কারণ সিলটি ভাঙা বা বিকৃত করা সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রের কর্মীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাদের কাজ থামিয়ে দেয়।
পরবর্তী সময়ে কর্মীরা ৩৮টি সিলমার্ক করা ব্যালট উদ্ধার করে, যেগুলোকে অবৈধ বলে চিহ্নিত করে এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশমতো বাতিল ঘোষণা করা হয়।
বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং ভোটগ্রহণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
ঘটনার ফলে বিকেল ১:৩০ থেকে প্রায় তিনটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ প্রায় এক ঘন্টার বেশি সময়ের জন্য স্থগিত থাকে। এই সময়কালে ভোটারদের অপেক্ষা করতে হয় এবং ভোটের প্রবাহে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটে।
লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু জানান, বাতিল করা সিলমার্ক ব্যালটগুলোকে নষ্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং পুনরায় গণনা করা হবে না।
অধিক তদন্তের পর তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আক্রমণকারী দলটি অন্য কোনো এলাকার থেকে আসা বলে জানা যায়, তাই তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
বাতিল করা ব্যালটের সংখ্যা ও ঘটনার প্রভাব নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর প্রশ্ন তুলেছে, তাই নির্বাচন কমিশন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করবে।
অধিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হস্তক্ষেপ রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তি বাড়ানো হবে বলে কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
এই ঘটনা নির্বাচনী কোডের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।



