ইলেকশন কমিশনের সিনিয়র সেক্রেটারি অখতার আহমেদ আজ বিকেল ৪টায় জানিয়েছেন, দেশের ৪২,৬৫১ ভোটিং কেন্দ্রের মধ্যে ৬,৬২০ কেন্দ্র থেকে এখনো ভোটার উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। ৭:৩০ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত সময়ে মোট ৪২,৬৫১ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬,০৩১ কেন্দ্রের তথ্য সংগ্রহের পর ভোটার উপস্থিতি ৪৭.৯১ শতাংশে স্থির হয়েছে।
এই তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় ডেটা সেন্টারে রিয়েল‑টাইমে আপডেট হয় এবং প্রত্যেক কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল পাঠাতে হয়। তবে ৬,৬২০ কেন্দ্র থেকে তথ্য না আসায় সামগ্রিক বিশ্লেষণে কিছু ফাঁক রয়ে গেছে, যা কমিশনের পরবর্তী পর্যবেক্ষণকে প্রভাবিত করতে পারে।
একই সময়ে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রায় ১০০টি কেন্দ্র, তিনটি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে, ভোটদান স্থগিতের দাবি জানায়। এই দাবির পেছনে কিছু কেন্দ্রের ক্ষেত্রে অভিযোগ ও অস্বাভাবিকতা উল্লেখ করা হয়েছে, যা কমিশনকে সতর্ক করেছে।
অখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, “বাতিলের কোনো সম্ভাবনা থাকতে পারে, তবে তা যাচাই না করা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, তবে যাচাই ছাড়া তাড়াতাড়ি মন্তব্য করা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে।” তিনি এ কথায় জোর দেন যে, কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।
কমিশনের রিটার্নিং অফিসারগণকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তদন্ত সম্পন্ন করে ফলাফল জানাবে। যদি কোনো কেন্দ্রের ভোটদান প্রক্রিয়ায় গুরুতর লঙ্ঘন পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট গণনা স্থগিত বা পুনরায় চালু করা হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, অখতার আহমেদ জানান, এখন পর্যন্ত কোনো বড় সমস্যার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। ভোটদান চলাকালীন বেশ কিছু কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক দল উপস্থিত ছিল এবং তারা প্রাথমিকভাবে কোনো বিশাল ব্যাঘাতের ইঙ্গিত দেয়নি।
দুইটি নির্দিষ্ট ভোটিং কেন্দ্রের পরিদর্শনের সময়, প্রথমে দুপুরের আগে উপস্থিতি কম ছিল বলে রিপোর্ট করা হয়। তবে দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়। এই প্রবণতা ভোটদান সময়সূচি অনুসারে স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
কমিশন আরও জানিয়েছে, বাকি ৬,৬২০ কেন্দ্রের তথ্য সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত তদারকি দল গঠন করা হয়েছে এবং তারা দ্রুত তথ্য সংগ্রহের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। তথ্য পাওয়া মাত্রই ভোটার উপস্থিতি হার আপডেট করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হবে।
ভোটদান শেষ হওয়ার পর, কমিশন সব কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফল সংকলন করে সরকারকে জানাবে এবং নির্বাচনী ফলাফলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অবশেষে, অখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, “প্রতিটি ভোটারকে তার অধিকার ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, এবং আমরা নিশ্চিত করব যে ভোটদান প্রক্রিয়া ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে কমিশন ভোটদান পর্যবেক্ষণে সতর্কতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।



