ঢাকায় নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন একটি প্রকাশ্য বিবৃতি প্রকাশ করে সকল রাজনৈতিক দল, প্রার্থি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সরকারি ও বেসরকারি কর্মী, পর্যবেক্ষক, মিডিয়া কর্মী এবং ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। এই ধন্যবাদ জানানো হয়েছে সাম্প্রতিক রেফারেন্ডাম ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সফল পরিচালনার পরিপ্রেক্ষিতে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের সময় যে সমন্বয় ও সহযোগিতা দেখা গেছে তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করেছে। সকল অংশগ্রহণকারীকে একত্রে কাজ করার জন্য প্রশংসা করা হয়েছে, যাতে ভোটারদের ইচ্ছা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়।
নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মালিকের মতে, এই ধন্যবাদ প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য হল নির্বাচনের ফলাফলকে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করা এবং ভবিষ্যতে একই রকম সুষ্ঠু প্রক্রিয়া বজায় রাখার জন্য উদ্দীপনা সৃষ্টি করা। তিনি আজ রাতের প্রেস রিলিজে এই বক্তব্য তুলে ধরেন।
প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে, রেফারেন্ডাম ও সংসদ নির্বাচনের সময় যে সকল সংস্থা ও ব্যক্তিরা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অবদান ছাড়া এই ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হতো না। বিশেষ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মিডিয়ার ন্যায়সঙ্গত প্রতিবেদন এবং পর্যবেক্ষকদের স্বচ্ছতা রক্ষার কাজকে উচ্চ প্রশংসা করা হয়েছে।
কমিশন আরও জানায়, নির্বাচনের সময় যে স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং উদযাপনমূলক পরিবেশ বজায় রাখা হয়েছে, তা দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হবে। এই সাফল্যকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়াও, কমিশন সকল মসজিদে শুক্রবার জুমা নামাজের পর বিশেষ প্রার্থনা করার আহ্বান জানায়। এই প্রার্থনা জাতীয় শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতির জন্য করা হবে এবং এটি দেশের সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
মসজিদ ছাড়াও, অন্যান্য ধর্মীয় স্থানে, যেমন মন্দির, গির্জা এবং অন্যান্য উপাসনাস্থলে, সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সকল ধর্মীয় গোষ্ঠীকে একত্রে দেশের মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
প্রার্থনার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশন আশা করে, এই সমবেত প্রার্থনা জাতীয় ঐক্যকে আরও দৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
বিপক্ষের দলগুলোও এই ধন্যবাদকে স্বীকৃতি দিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনায় তাদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। তারা উল্লেখ করেছে, সহযোগিতামূলক মনোভাবই দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
কমিশন এই ধন্যবাদ ও প্রার্থনা আহ্বানকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করে, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।
শেষে, নির্বাচন কমিশন সকল অংশগ্রহণকারীকে আবারও ধন্যবাদ জানিয়ে, দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য একসাথে কাজ করার আহ্বান জানায়। এই ধন্যবাদ ও প্রার্থনা আহ্বান দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও স্থিতিশীল ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



