অ্যাপল ‘সেভারেন্স’ শোয়ের বৌদ্ধিক সম্পদ ও সব অধিকার সম্পূর্ণভাবে নিজের হাতে নেয়ার ঘোষণা করেছে, ফলে পরবর্তী সিজনগুলো অ্যাপলের নিজস্ব স্টুডিওতে তৈরি হবে। এই সিদ্ধান্তটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মূল কন্টেন্ট শক্তিশালী করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। শোটি এখন থেকে অ্যাপলের মূল শিরোনামগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।
ডিলের মোট মূল্য প্রায় সাত কোটি ডলারের কাছাকাছি, যা অ্যাপলের জন্য তুলনামূলকভাবে কম মূল্যের চুক্তি হিসেবে বিবেচিত। অধিগ্রহণের পরেও মূল উৎপাদন সংস্থা Fifth Season কে এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে রাখা হয়েছে, যাতে শোয়ের সৃজনশীল দিক বজায় থাকে। এই ব্যবস্থা উভয় পক্ষের জন্য পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করে।
অ্যাপল পূর্বে AMC Studios-এর সঙ্গে ‘সিলো’ সিরিজের প্রথম সিজনের পর একই ধরনের চুক্তি সম্পন্ন করেছিল, যেখানে প্রথম সিজনের পর ইন-হাউস উৎপাদনে রূপান্তরিত হয়। ‘সেভারেন্স’ ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, যা স্ট্রিমিং শিল্পে মূল কন্টেন্টের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রবণতা প্রতিফলিত করে। এই ধরনের চুক্তি অ্যাপলের কন্টেন্ট লাইব্রেরি সমৃদ্ধ করতে সহায়ক।
‘সেভারেন্স’ এখন অ্যাপলের জনপ্রিয় শিরোনামগুলোর তালিকায় যোগ হয়েছে, যার মধ্যে ‘Your Friends and Neighbors’ এবং ‘Stick’ উল্লেখযোগ্য। এই শোগুলো ইতিমধ্যে প্ল্যাটফর্মের দর্শকসংখ্যা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন অধিগ্রহণের মাধ্যমে অ্যাপল তার মূল সিরিজের পরিসর আরও বিস্তৃত করতে চায়।
‘সেভারেন্স’ এর উৎপাদন ব্যয় Fifth Season এর আর্থিক সক্ষমতার বাইরে গিয়ে পৌঁছায়, ফলে স্টুডিওটি অ্যাপল থেকে অগ্রিম অর্থের অনুরোধ করে। পাশাপাশি, উৎপাদনকে নিউ ইয়র্ক থেকে কানাডায় স্থানান্তর করার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়েছিল, যাতে উচ্চতর ট্যাক্স রিবেট পাওয়া যায়। তবে এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
অ্যাপলের পর্যাপ্ত আর্থিক সম্পদ এই শোকে সম্পূর্ণভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম করেছে। তাই কোম্পানি পুরো অধিকার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়, যা শোয়ের ধারাবাহিকতা ও গুণমান নিশ্চিত করে। ইন-হাউস উৎপাদন মডেলটি ভবিষ্যতে আরও সৃজনশীল স্বাধীনতা প্রদান করবে।
‘সেভারেন্স’ এর দ্বিতীয় সিজন অ্যাপলের সর্বাধিক দেখা সিরিজের মর্যাদা অর্জন করে, এবং ২০২৫ সালের এমি অ্যাওয়ার্ডে সর্বোচ্চ নামকরণ পায়। এই সাফল্য শোকে প্ল্যাটফর্মের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তাই অ্যাপল এই শোকে দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখার পরিকল্পনা করেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী শোটি মোট চারটি সিজন পর্যন্ত চলবে, এবং তার পাশাপাশি স্পিন‑অফ, প্রিক্যুয়েল এবং আন্তর্জাতিক সংস্করণ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। এই অতিরিক্ত প্রকল্পগুলো শোয়ের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়তা করবে। অ্যাপল এই পরিকল্পনাগুলোকে ভবিষ্যৎ কন্টেন্ট সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেখছে।
সারসংক্ষেপে, ‘সেভারেন্স’ এর অধিকার সম্পূর্ণভাবে অ্যাপলের হাতে চলে যাওয়া স্ট্রিমিং বাজারে মূল কন্টেন্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ইন-হাউস উৎপাদন ও সম্ভাব্য স্পিন‑অফের মাধ্যমে শোটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কৌশলটি অ্যাপলের মূল সিরিজের পোর্টফোলিওকে সমৃদ্ধ করে, পাশাপাশি দর্শকদের জন্য বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় বিষয়বস্তু নিশ্চিত করবে।



