মহান ভারত রত্ন ও তামিল কর্ণাটিক গায়িকা এম.এস. সুবুলক্ষ্মীর জীবনীচিত্রের শুটিং শীঘ্রই শুরু হবে, যেখানে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাই পল্লবী শিরোনাম ভূমিকায় অভিনয় করবেন। এই প্রকল্পটি তামিল চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত পরিচালক গৌতম টিননুরি পরিচালনা করবেন এবং শিল্পের উঁচু মানের প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছে।
এম.এস. সুবুলক্ষ্মী ১৯১৬ সালে তামিলনাড়ুতে জন্মগ্রহণ করেন এবং কর্ণাটিক সঙ্গীতের জগতে অদ্বিতীয় সাফল্য অর্জন করেন। তিনি প্রথম ভারতীয় শিল্পী হিসেবে গ্র্যামি পুরস্কার জিতেছেন এবং বহু আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় সঙ্গীতের পরিচয় দিয়ে গর্বিত হয়েছেন। তার সুরের মাধুর্য ও শুদ্ধতা আজও সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে গেছে।
বায়োপিকের নির্মাণের পরিকল্পনা সম্প্রতি নিশ্চিত হয়েছে এবং শিল্পের বিভিন্ন সূত্রে জানানো হয়েছে যে শুটিং কাজ এই বছরই শুরু হবে। যদিও এখনও সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা রয়েছে, তবে প্রকল্পের মূল তথ্যগুলো ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রটি সুবুলক্ষ্মীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে পুনরায় জীবন্ত করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গৌতম টিননুরি, যিনি পূর্বে “ఆగస్టు” এবং “మార్గం” মতো চলচ্চিত্রে প্রশংসিত কাজ করেছেন, এই বায়োপিকের জন্য গভীর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সুবুলক্ষ্মীর সঙ্গীত যাত্রা, ব্যক্তিগত জীবন এবং সামাজিক অবদানের প্রতিটি দিক বিশ্লেষণ করছেন, যাতে চলচ্চিত্রটি ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়। তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকল্পকে শিল্পগত ও বৌদ্ধিকভাবে সমৃদ্ধ করবে।
সাই পল্লবী, যিনি ইতিমধ্যে “চিরকুট্টি” এবং “গুন্ডা” মতো চলচ্চিত্রে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, এখন এম.এস.সুবুলক্ষ্মীর চরিত্রে নিজেকে প্রস্তুত করছেন। তিনি কর্ণাটিক গায়ন শিখতে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, যাতে গায়িকার স্বর ও শৈলীর সূক্ষ্মতা পুনরায় উপস্থাপন করা যায়। এই প্রশিক্ষণ তাকে গায়িকার স্বরলিপি ও শৈলীর সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
পরিচালকের গবেষণার পাশাপাশি, সাই পল্লবী উপলব্ধ সব আর্কাইভাল ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি পুরনো রেকর্ডিং, লাইভ পারফরম্যান্স এবং টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সুবুলক্ষ্মীর স্বর এবং মঞ্চ উপস্থিতি সম্পর্কে গভীর ধারণা অর্জন করছেন। এই প্রচেষ্টা তাকে চরিত্রের অভ্যন্তরীণ মনোভাব ও প্রকাশভঙ্গি সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে সহায়তা করবে।
শুটিং কাজের সূচনা এই বছরের শেষের দিকে নির্ধারিত হয়েছে এবং তা প্রধানত তামিলনাড়ু ও চেন্নাইয়ের বিভিন্ন স্থানে হবে। চলচ্চিত্রের সেট ডিজাইন, পোশাক এবং সঙ্গীতের জন্য বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে, যাতে সময়ের প্রামাণিকতা বজায় থাকে। উৎপাদন দলটি উচ্চমানের সাউন্ড রেকর্ডিং এবং ঐতিহাসিক পটভূমি পুনর্নির্মাণে মনোযোগ দেবে।
এই বায়োপিকটি শুধুমাত্র সুবুলক্ষ্মীর সঙ্গীত যাত্রা নয়, তার সামাজিক দায়িত্ব এবং নারীসশক্তিকরণের প্রতীকী ভূমিকেও তুলে ধরবে। দর্শকরা আশা করছেন যে চলচ্চিত্রটি তার জীবনের উত্থান-পতন, সাফল্য এবং সংগ্রামকে সত্যিকারেরভাবে উপস্থাপন করবে। সাই পল্লবীর অভিনয় এবং গৌতম টিননুরির দিকনির্দেশনা এই প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের সমাপ্তি ও মুক্তির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে শিল্পের অভ্যন্তরে ইতিমধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা গড়ে উঠেছে। এই চলচ্চিত্রটি ভবিষ্যতে কর্ণাটিক সঙ্গীতের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এবং ভারতীয় সঙ্গীতের গৌরবকে পুনরায় উদযাপন করতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



