১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় নাগরিক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এক সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, তাদের পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বেলা ১২টার পর থেকে কেন্দ্রগুলোতে অনুপযুক্ত ঘটনা বাড়ছে এবং প্রশাসন যদিও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার দাবি করে, তবে বাস্তবে বিএনপি নেতাকর্মীরা কেন্দ্র দখল করে আছে।
শারমিনের মতে, ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এজেন্টদের উপস্থিতি অপরিহার্য, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এজেন্টদের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “নানাভাবে ভোটকে বিতর্কিত করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে” এবং “বেলা ১২টার পর থেকে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে”। এসব ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে ক্ষমতার লড়াইকে দায়ী করা হয়েছে।
বিশেষ করে ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকায় জাতীয় নাগরিক দলের প্রার্থী নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর এজেন্টদের বিরুদ্ধে একই রকম বাধা দেখা দেয়। শারমিন জানান, বিএনপি নেতাকর্মীরা মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর পথে এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেয় এবং কেন্দ্রের দরজা বন্ধ করে রাখে। এ ঘটনা ঘটার সময় বিকেলবেলা, যখন ভোটের শেষ সময়ের কাছাকাছি ছিল, তখনই এজেন্টদের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজের ভোটকেন্দ্রটি ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখানে প্রায় দুই হাজার ভোটার নিবন্ধিত। শারমিনের বর্ণনা অনুযায়ী, বিএনপি নেতাকর্মীরা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেয় এবং কিছু ক্ষেত্রে তাদের সরাসরি তাড়া করে। এ ধরনের আচরণ ভোটের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করে।
বিএনপি পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, তারা বলছে যে তারা ভোটের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য উপস্থিত। তবে শারমিনের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, “প্রশাসন অনিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে” বলে দাবি করা সত্ত্বেও, বাস্তবে কেন্দ্র দখল করে থাকা নেতাকর্মীরা ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
জাতীয় নাগরিক দল এই পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছে এবং এজেন্টদের নিরাপদে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছে। দলটি উল্লেখ করেছে, যদি এধরনের বাধা চলতে থাকে, তবে ভোটের ফলাফল নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা বাড়বে এবং নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিকোণ থেকে, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। শারমিনের অভিযোগের পর, কমিশনকে তৎক্ষণাৎ পর্যবেক্ষণ দল পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং উভয় দলের এজেন্টদের প্রবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রত্যাশিত।
এই ঘটনা দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। জাতীয় নাগরিক দল ও বিএনপি উভয়েরই ভোটের ফলাফল নিয়ে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে, এবং এধরনের সংঘর্ষ ভবিষ্যতে ভোটারদের অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা-৮ মত গুরুত্বপূর্ণ আসনে যদি এজেন্টদের কাজ করা বাধাগ্রস্ত হয়, তবে ভোটের গণনা ও ফলাফল প্রকাশের সময় অতিরিক্ত বিতর্কের সম্ভাবনা থাকে।
অবশেষে, শারমিনের বক্তব্যের ভিত্তিতে, জাতীয় নাগরিক দল আগামী দিনগুলোতে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে এবং নির্বাচন কমিশনকে আরও কঠোর নজরদারি করতে অনুরোধ করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ধরনের ঘটনা যদি সমাধান না হয়, তবে নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে পার্টিগুলোর মধ্যে বিরোধ বাড়তে পারে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।



