19 C
Dhaka
Friday, February 13, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাওমানের ৪৪ বছর বয়সী কালীম টুইন্টি২০ বিশ্বকাপে সর্ববয়স্ক খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়ে

ওমানের ৪৪ বছর বয়সী কালীম টুইন্টি২০ বিশ্বকাপে সর্ববয়স্ক খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়ে

স্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টুইন্টি২০ বিশ্বকাপে ওমানের অল-রাউন্ডার আমির কালীম ৪৪ বছর ৮১ দিন বয়সে সর্ববয়স্ক খেলোয়াড়ের শিরোপা অর্জন করেন। তিনি দলের জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে আট উইকেটের পরাজয়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন, যা ২০১৬ সালের রায়ান ক্যাম্পবেল (৪৪ বছর ৩৪ দিন) রেকর্ডকে অতিক্রম করে।

কালীমের এই সাফল্য তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও কঠোর প্রশিক্ষণের ফল, তিনি জানিয়েছেন যে বয়স কেবল একটি সংখ্যা এবং তিনি এখনও উচ্চ স্তরে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম। তার ফিটনেস রুটিন ও জাতীয় দলের ট্রেনার ও ফিজিওথেরাপিস্টের সহায়তা তাকে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।

২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ডেবিউ নেওয়ার পর কালীমের ক্যারিয়ার কিছু সময়ের জন্য সাইডলাইনে ছিল। তবে সাম্প্রতিক দুই-তিন বছর তিনি ঘরোয়া লিগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বকাপের দলে স্থান পেয়েছেন, যেখানে তিনি আহত দ্রুতগামী হাস্নাইন শাহের পরিবর্তে নির্বাচিত হন।

কালীমের মতে, এখনো তার খেলায় তৃষ্ণা রয়েছে এবং তিনি নিজের ফিটনেস বজায় রাখতে প্রতিদিন কঠোর প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমি এখনও খেলতে আগ্রহী, এবং এই বয়সে নিজেকে শারীরিকভাবে প্রস্তুত রাখা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

ওমানের দলে আরেকজন প্রবীণ খেলোয়াড় হলেন মোহাম্মদ নাদিম, যিনি ৪৩ বছর বয়সে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছেন, ফলে দলটির বয়সগত বৈচিত্র্য স্পষ্ট হয়। কালীমের মতে, সহযোগী জাতিগুলোর পূর্ণ-সদস্য দলের সঙ্গে নিয়মিত ম্যাচের অভাব রয়েছে, যা তাদের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে।

গত বছর ওমান মোট ১৫টি টুইন্টি২০ ম্যাচ খেলেছে, তবে শুধুমাত্র দুইটি ম্যাচই ভারত ও পাকিস্তানের মতো টেস্ট দলগুলোর বিরুদ্ধে হয়েছে। কালীম জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের উচ্চ স্তরের অভিজ্ঞতা কম, যদিও আমাদের ট্যালেন্ট সমৃদ্ধ। নিয়মিত টেস্ট দলের সঙ্গে ম্যাচের সুযোগ না পেলে আমরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে পারি না।”

বিশ্বকাপের সময় ইংল্যান্ড বনাম নেপাল এবং নেদারল্যান্ডস বনাম পাকিস্তান ম্যাচে সহযোগী দলগুলো টেস্ট দলের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখিয়েছে, যা কালীমকে উৎসাহিত করেছে। তিনি আইসিসি (Icc) কে ভবিষ্যতে আরও বেশি সুযোগ প্রদান করার আহ্বান জানান।

ওমানের গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং অন্যান্য পূর্ণ-সদস্য দল রয়েছে, যেখানে তারা এখনো কোনো জয় অর্জন করতে পারেনি। তবুও কালীম আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে দলের পারফরম্যান্স উন্নত হবে এবং পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তারা আরও ভাল ফলাফল দেখাবে।

কালীমের মতে, দলের মনোভাব ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে কঠোর পরিশ্রম করলে তারা ধীরে ধীরে শীর্ষ স্তরে পৌঁছাতে পারবে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা প্রতিটি সুযোগকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করব এবং আমাদের খেলোয়াড়দের উন্নয়নে মনোযোগ দেব।”

ওমানের টুইন্টি২০ বিশ্বকাপ যাত্রা যদিও কঠিন, তবে কালীমের নেতৃত্বে দলটি অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছে। তার বয়সের পরেও উচ্চমানের পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন।

ভবিষ্যতে ওমানের টিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে পূর্ণ-সদস্য দলের সঙ্গে নিয়মিত ম্যাচের ব্যবস্থা, যা তাদের কৌশলগত উন্নতি ও আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। কালীমের মতামত অনুযায়ী, আইসিসি (Icc) এর নীতি ও পরিকল্পনা এই দিকটি সমর্থন করা উচিত।

এই টুর্নামেন্টে ওমানের পারফরম্যান্স যদিও এখনো প্রত্যাশিত ফল না দিলেও, কালীমের বয়সের সীমা অতিক্রম করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments