থাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি কেন্দ্রের গণনা শেষ হওয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩৩,১৫৭ ভোটে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। একই সময়ে জামায়াত-এ-ইসলামি সমর্থিত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ২১,৬৪৯ ভোট পেয়েছেন। ফলাফলে দেখা যায় মির্জা ফখরুলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় ১১,৫০৮ ভোটের স্পষ্ট ব্যবধান রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০টি কেন্দ্রের মোট ভোটসংখ্যা ৫৪,৮০৬, যার মধ্যে মির্জা ফখরুল ৩৩,১৫৭ ভোট, দেলাওয়ার হোসেন ২১,৬৪৯ ভোট এবং ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ থেকে রেজাউল করিম হাতপাখা ২৬ ভোট পেয়েছেন। বাকি ১৫৫টি কেন্দ্রের গণনা এখনও চলমান, যা শেষ ফলাফলে সামান্য পরিবর্তন আনতে পারে, তবে বর্তমান ব্যবধানের ভিত্তিতে মির্জা ফখরুলের অগ্রগতি দৃঢ় বলে অনুমান করা হচ্ছে।
মির্জা ফখরুলের নিজস্ব ভোটকেন্দ্র, অর্থাৎ ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি ১,৭৭৭ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর ৬১২ ভোটের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি পেয়েছেন। এই কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা যায় ‘হ্যাঁ’ ভোট ১,৭৯৫ এবং ‘না’ ভোট ৫২১, যা স্থানীয় ভোটারদের উচ্চ অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক দেলাওয়ার হোসেনের এই কেন্দ্রে ভোটসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, যা তার সমর্থনভিত্তি সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ থেকে রেজাউল করিম হাতপাখা এই কেন্দ্রে মাত্র ২৬ ভোট পেয়ে অন্যান্য দুই প্রধান প্রার্থীর তুলনায় নগণ্য প্রভাব ফেলেছেন। তার ভোটসংখ্যা সামগ্রিক ফলাফলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে না, তবে ছোট ভোটসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বাকি ১৫৫টি কেন্দ্রের গণনা শেষ না হওয়ায় চূড়ান্ত ফলাফল এখনও অনিশ্চিত, তবে বর্তমান ব্যবধানের ভিত্তিতে মির্জা ফখরুলের জয় নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। নির্বাচনী কমিশন পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে বাকি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে, যা শেষ ফলাফলে কোনো বড় পরিবর্তন না হলে মির্জা ফখরুলকে পরিষদে বিজয়ী হিসেবে নিশ্চিত করবে।
এই পর্যায়ে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকগুলোর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত থাকলেও মির্জা ফখরুলের অগ্রগতি স্পষ্ট, যা তার পার্টির কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করে। জামায়াত-এ-ইসলামি সমর্থিত প্রার্থীর ভোটসংখ্যা যদিও উল্লেখযোগ্য, তবে বর্তমান ব্যবধান তাকে আসনের শেষ পর্যায়ে পিছিয়ে রাখবে।
নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ভোটগণনা শেষ হওয়ার পর ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে পার্লামেন্টের আসনবণ্টন চূড়ান্ত হবে। ফলাফল ঘোষণার পর পার্টিগুলো তাদের নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিবেচনা করবে এবং আসনের প্রতিনিধিত্বের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেবে।
সংক্ষেপে, ৩০টি কেন্দ্রের ফলাফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অগ্রগতি স্পষ্ট, এবং বাকি কেন্দ্রের গণনা শেষ হলে তার জয় নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা উচ্চ। এই ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন গতিপথ নির্ধারণের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে বিএনপি-র অবস্থানকে পুনরায় শক্তিশালী করতে পারে।



