19 C
Dhaka
Friday, February 13, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবিসি বিরুদ্ধ মামলা ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এ আদালতে শোনার জন্য নির্ধারিত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবিসি বিরুদ্ধ মামলা ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এ আদালতে শোনার জন্য নির্ধারিত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবিসি বিরুদ্ধ বহু বিলিয়ন ডলারের মামলা ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এ শোনার জন্য নির্ধারিত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের নথিতে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক বিবিসির আবিষ্কারের (ডিসকভারি) সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন, ফলে মামলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়েছে।

মামলার মূল বিষয় হল বিবিসির “প্যানোরামা” প্রোগ্রামের একটি সম্পাদনা, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বক্তৃতার দুটি অংশকে একসাথে যুক্ত করে এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছিল যে তিনি সরাসরি সমর্থকদের ৬ জানুয়ারি ২০২১-এ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল দখল করতে উত্সাহিত করেছেন। ট্রাম্পের দল এই সম্পাদনাকে তার সুনাম ক্ষতিগ্রস্তকারী এবং ভ্রান্ত তথ্য প্রচারকারী হিসেবে বিবেচনা করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সম্পাদনাটি মূলত ট্রাম্পের বক্তৃতার একটি অংশকে অন্য অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করে একটি ধারাবাহিকতা তৈরি করেছিল, যা বাস্তবে ঘটেনি এমন একটি দৃশ্য উপস্থাপন করেছিল। এইভাবে তৈরি করা ভিডিও ক্লিপটি মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়, ফলে ট্রাম্পের সমর্থক ও বিরোধী উভয়েরই মনোযোগ আকর্ষণ করে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে এই সম্পাদনা তার ব্যক্তিগত সুনাম ও ব্যবসায়িক স্বার্থের ক্ষতি করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মামলা দুটি প্রধান দাবি নিয়ে গঠিত: প্রথমটি হল মানহানি (ডিফ্যামেশন) এবং দ্বিতীয়টি হল অবৈধ বাণিজ্যিক অনুশীলন (ট্রেড প্র্যাকটিস)। তার দল দাবি করে যে বিবিসি ইচ্ছাকৃতভাবে তার রাজনৈতিক অবস্থানকে ক্ষুন্ন করতে সম্পাদনা ব্যবহার করেছে এবং ফলে ট্রাম্পের ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে। আদালতে তিনি ক্ষতিপূরণ ও সংশোধনী দাবি করছেন।

বিবিসি এই অভিযোগের প্রতি প্রথমে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে ট্রাম্পের ক্ষতিপূরণ চাহিদা প্রত্যাখ্যান করেছে। বিবিসি জোর দিয়ে বলেছে যে সম্পাদনা একটি সাংবাদিকীয় সিদ্ধান্তের ফল এবং এতে কোনো মানহানিকর উদ্দেশ্য ছিল না। এছাড়া, তারা যুক্তি দিয়েছে যে ট্রাম্পের দাবিতে মানহানি বা বাণিজ্যিক অনুশীলনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

আবিষ্কারের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর, উভয় পক্ষকে এখন সম্পূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহের পর্যায়ে অগ্রসর হতে হবে। বিচারক উল্লেখ করেছেন যে মামলার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সময়সীমা বজায় রাখা জরুরি। ফলে, উভয় দলকে প্রয়োজনীয় নথি ও সাক্ষ্য দ্রুত সরবরাহ করতে হবে।

মামলাটি দুই সপ্তাহের একটি সময়সীমার মধ্যে শোনার জন্য নির্ধারিত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়সীমা উভয় পক্ষকে তাদের যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দেবে। আদালতের সময়সূচি অনুযায়ী, প্রথম সপ্তাহে উভয় পক্ষের প্রাথমিক যুক্তি শোনা হবে, আর দ্বিতীয় সপ্তাহে সাক্ষ্য ও নথি বিশ্লেষণ করা হবে।

বিবিসি বর্তমানে মামলায় কোনো মন্তব্য করেনি, যদিও পূর্বে তারা সম্পাদনার জন্য ক্ষমা চেয়েছে। এই নীরবতা মিডিয়া ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে অতিরিক্ত অনুমানকে উস্কে দিয়েছে, তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বিবিসি এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি।

মামলার দুই প্রধান দিক—মানহানি ও বাণিজ্যিক অনুশীলন—উভয়ই জটিল আইনি প্রশ্ন উত্থাপন করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল যুক্তি দিচ্ছে যে সম্পাদনা তার রাজনৈতিক বার্তা পরিবর্তন করে তার সুনাম ক্ষতি করেছে, যেখানে বিবিসি দাবি করে যে সাংবাদিকীয় স্বাধীনতা ও সম্পাদনার স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য তাদের কাজ ন্যায়সঙ্গত।

এই মামলাটি আন্তর্জাতিক মিডিয়া আইনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হতে পারে, বিশেষ করে যখন একটি বিদেশি সংবাদ সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে দায়িত্বের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। আদালতের রায় ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় কীভাবে বিচার করা হবে তা নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানও এই মামলার মাধ্যমে প্রভাবিত হতে পারে। যদি তিনি সফল হন, তবে এটি তার সমর্থকদের কাছে একটি শক্তিশালী সিগন্যাল পাঠাবে যে তিনি মিডিয়া দ্বারা সৃষ্ট ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, যদি বিবিসি জয়ী হয়, তবে এটি মিডিয়ার স্বাধীনতা ও সম্পাদনার স্বায়ত্তশাসনকে শক্তিশালী করবে।

পরবর্তী ধাপে উভয় দলকে তাদের আইনগত দল গঠন করে আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া, সম্ভাব্য সমঝোতা বা মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা এখনও উন্মুক্ত রয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা রিপোর্ট হয়নি।

মামলাটি এখনও বিকাশমান, এবং আদালতের শোনার তারিখের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে নতুন তথ্য প্রকাশিত হতে পারে। বর্তমান পর্যায়ে, উভয় পক্ষই তাদের কৌশল নির্ধারণে মনোযোগী এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে বিশ্লেষকরা দৃষ্টি রাখছেন।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments