যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) অ্যাপল নিউজ অ্যাপের কনটেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে উদ্বেগ জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিটি অ্যাপল সিইও টিম কুকের কাছে রচিত এবং এতে ডানপন্থী সংবাদকে সীমাবদ্ধ করার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এই পদক্ষেপটি মিডিয়া রিসার্চ সেন্টার নামক রাইট-ওয়িংক থিংক ট্যাঙ্কের প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে।
FTC চেয়ার অ্যান্ড্রু ফারগুসন চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে মিডিয়া রিসার্চ সেন্টার রিপোর্ট করেছে অ্যাপল নিউজের ফিডে ডানপন্থী প্রকাশনাগুলোকে শীর্ষ ২০টি আর্টিকেল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায় যে এই প্রকাশনাগুলোকে প্রধান স্থানে না রেখে ব্যবহারকারীর কাছে কম দৃশ্যমান করা হয়েছে। ফারগুসন এই তথ্যকে “গুরুতর প্রশ্ন” হিসেবে চিহ্নিত করে অ্যাপল নিউজের সেবা শর্তাবলী ও ভোক্তাদের প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
ফারগুসন চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি কোনো আদর্শিক ভিত্তিতে কন্টেন্ট দমনকে ঘৃণা ও নিন্দা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে FTC-র কাছে অ্যাপলকে রাজনৈতিক বা আদর্শিক অবস্থান নিতে বাধ্য করার কোনো ক্ষমতা নেই, তবে যদি কোম্পানির চর্চা সেবা শর্তাবলী বা ভোক্তাদের যুক্তিসঙ্গত প্রত্যাশার সঙ্গে বিরোধপূর্ণ হয়, তবে তা FTC আইন লঙ্ঘন হতে পারে।
ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (FCC) চেয়ারব্রেনডেন কার, যিনি ও ফারগুসনের মতোই ট্রাম্পের নিয়োগে বড় টেক কোম্পানির সমালোচক, ফারগুসনের অবস্থানকে সমর্থন করে একটি মন্তব্য প্রকাশ করেন। কারের মতে, “অ্যাপলকে ডানপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি দমন করার কোনো অধিকার নেই এবং তা FTC আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।” এই সমর্থন ফারগুসনের উদ্বেগকে আরও দৃঢ় করে।
ফারগুসন অ্যাপলকে তার সেবা শর্তাবলীর একটি “সমগ্রিক পর্যালোচনা” করতে এবং কনটেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়া শর্তাবলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ত্বরিতভাবে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণেরও অনুরোধ করেন, যাতে ব্যবহারকারীর প্রত্যাশা ও সেবা শর্তাবলীর মধ্যে কোনো ফাঁক না থাকে।
এই চিঠি পাঠানোর এক দিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে মিডিয়া রিসার্চ সেন্টারের প্রতিবেদন শেয়ার করেন। ট্রাম্প পূর্বে বহুবার বড় টেক কোম্পানিগুলোকে ডানপন্থী কন্টেন্ট দমন করার অভিযোগ তুলেছেন। তার এই মন্তব্যের পরেও বেশ কয়েকটি প্রধান প্ল্যাটফর্ম পূর্বের মিথ্যা সংবাদ ও ভুল তথ্য দমন নীতি কিছুটা শিথিল করেছে।
অ্যাপল এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক গত এক বছর ধরে উষ্ণ ও শীতল উভয় পর্যায়ে পরিবর্তিত হয়েছে। কিছু সময়ে অ্যাপল ট্রাম্পের নীতি সমর্থনকারী পদক্ষেপে সহযোগিতা করেছে, আবার অন্য সময়ে নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বিষয়ক মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এই পরিবর্তনশীল সম্পর্কের প্রেক্ষিতে FTC-র চিঠি প্রযুক্তি ও রাজনীতির সংযোগকে নতুন আলোকে উপস্থাপন করে।
ফারগুসন ও কারের মত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সমালোচনা বড় টেক কোম্পানিগুলোর নীতি নির্ধারণে সরকারি নজরদারির মাত্রা বাড়াতে পারে। যদি অ্যাপল নিউজের কনটেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়া সত্যিই সেবা শর্তাবলীর সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হয়, তবে FTC আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
অ্যাপল এখনও এই চিঠির প্রতি কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশ করেনি এবং তার নীতি পর্যালোচনা প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি। তবে ফারগুসনের আহ্বান অনুসারে কোম্পানি যদি দ্রুত সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেয়, তবে ব্যবহারকারীর বিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং আইনি ঝুঁকি কমাতে পারে।
এই বিষয়টি প্রযুক্তি ও মিডিয়া শিল্পে কনটেন্ট নির্বাচন ও ন্যায্যতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে তীব্র করে তুলেছে। ভবিষ্যতে যদি FTC বা অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা অ্যাপল নিউজের কনটেন্ট নীতি সম্পর্কে আরও তদন্ত করে, তবে তা ব্যবহারকারীর তথ্যপ্রাপ্তির স্বাধীনতা ও প্ল্যাটফর্মের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



