ইরান তার প্রধান পারমাণবিক সুবিধাগুলোর সুরক্ষা জোরদার করতে নতুন নির্মাণ কাজ চালু করেছে, যা সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে স্পষ্ট দেখা যায়। নাতাঞ্জ ও ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের আশেপাশে নতুন ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ এবং শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে।
উল্লেখিত স্যাটেলাইট ছবিগুলোতে দেখা যায়, তেহরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের নিকটবর্তী শহীদ আহমাদি রোশন সাইটে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের কংক্রিট স্তর পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে এবং মাটি সরিয়ে নতুন কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে, ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রবেশদ্বারকে মাটি চাপা দিয়ে আড়াল করা হয়েছে, যা দৃশ্যমানতা কমাতে সহায়তা করে।
নাতাঞ্জের শিলার নিচে নতুন কংক্রিটের আস্তরণ বসানোর পাশাপাশি, পুরনো টানেলগুলো থেকে মাটি অপসারণের কাজও চালু রয়েছে। এই কাজগুলোকে ঘিরে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, গত বছরের ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্রের কিছু অংশে সাদা প্যানেল দিয়ে ছাদ ঢেকে দেওয়া হয়েছে, যা আকাশপথে নজরদারি এড়াতে সহায়ক।
ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের ক্ষেত্রে, স্যাটেলাইটে দেখা যায় ভারী নির্মাণ যন্ত্রপাতি সক্রিয়, তবে নতুন গঠনগুলো এখনো পূর্ণ কার্যকর অবস্থায় পৌঁছায়নি। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, এই নির্মাণ কাজগুলো মূলত ক্ষতিগ্রস্ত সুবিধার পুনরুদ্ধার এবং অবশিষ্ট সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণে লক্ষ্যভিত্তিক।
গত বছর ইসরায়েলি বিমান হামলায় নাতাঞ্জের সমৃদ্ধিকরণ সেক্টরে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছিল। সেই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোকে সাদা প্যানেল দিয়ে ঢেকে আকাশ থেকে দৃশ্যমানতা কমানো হয়েছিল, যা ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্লেষকরা বলেন, নতুন টানেল এবং কংক্রিটের স্তর গড়ে তোলার মূল উদ্দেশ্য হল পূর্বের আক্রমণের ক্ষতি লুকিয়ে রাখা এবং বাকি থাকা উপকরণ ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধার করা। এই ধরনের পদক্ষেপ পারমাণবিক সুবিধার স্থায়িত্ব বাড়াতে সহায়তা করে।
আঞ্চলিক স্তরে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক আলোচনার সূচনা হয়েছে, যা পারমাণবিক বিষয়ে উত্তেজনা হ্রাসের লক্ষ্যে। তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগকে তীব্র করেছে।
একজন কূটনীতিক মন্তব্য করেন, “ইরানের এই নির্মাণ কাজগুলো তার পারমাণবিক প্রোগ্রামের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তার স্বনির্ভরতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করে।” এই বক্তব্য ইরানের কূটনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করে।
একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকও যোগ করেন, “নতুন ভূগর্ভস্থ টানেল এবং কংক্রিটের সুরক্ষা ব্যবস্থা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শন সংস্থার কাজকে জটিল করে তুলতে পারে, যা পারমাণবিক স্বচ্ছতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।”
এই উন্নয়নগুলো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অ-প্রসারণ নীতি নিয়ে আলোচনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ইরানের পারমাণবিক সুবিধার সুরক্ষা বাড়ার ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি ও পরিদর্শন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে।
আসন্ন মাসগুলোতে ইরান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে পারমাণবিক বিষয়ক আলোচনার সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান সাইটের নির্মাণ কাজের সম্পূর্ণতা ২০২৬ সালের শেষের দিকে হতে পারে, যা পরবর্তী আইএএএ বৈঠকে আলোচনার বিষয় হতে পারে।
সর্বোপরি, স্যাটেলাইটে দেখা নতুন নিরাপত্তা কাঠামো ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষার প্রতি তার দৃঢ় সংকল্পকে প্রকাশ করে, এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন গতিবিধি তৈরি করে।



