পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কারাগারে থাকা অবস্থায় ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতে জমা করা এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি মাত্র ১৫ শতাংশই দেখতে পাচ্ছেন। এই স্বাস্থ্য অবনতি দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অবস্থানকে নতুন প্রশ্নের মুখে নিয়ে এসেছে।
কানুনগত প্রক্রিয়ায় জড়িত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইমরান খান গত তিন মাস ধরে চোখে ঝাপসা দেখার অভিযোগ জানিয়ে আসলেও কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত একদিন হঠাৎ করে ডান চোখে সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যায়।
পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত আইনজীবী সালমান সাফদার ১০ ফেব্রুয়ারি প্রায় দুই ঘণ্টা ইমরান খানের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং কারাগারের পরিবেশ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর তিনি সাত পৃষ্ঠার বিশদ প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে যে, ইমরান খান ৭৩ বছর বয়সী এবং তার দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের পাশাপাশি মানসিকভাবে অস্থির অবস্থায় আছেন; সাক্ষাৎকারের সময় তার চোখ থেকে ধারাবাহিকভাবে অশ্রুপাত হচ্ছিল।
৬ ফেব্রুয়ারি করা একটি চিকিৎসা পরীক্ষায় রাইট সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (RVO) রোগ নির্ণয় করা হয়। এই রোগটি রেটিনার ভেতরের রক্তনালীর বন্ধ হয়ে রক্ত জমাট বাঁধার ফলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের কারণ হয়।
সুপ্রিম কোর্ট এই তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। আদালত একটি বিশেষ চিকিৎসা দল গঠন করে এবং ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইমরান খানের চোখের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়।
একই সঙ্গে কোর্ট ইমরান খানের যুক্তরাজ্যে বসবাসরত দুই পুত্রের সঙ্গে ফোনে কথা বলার অনুমতি প্রদান করে, যাতে তার মানসিক অবস্থা কিছুটা শিথিল হয়।
ইমরান খানের রাজনৈতিক দল, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI), এই প্রতিবেদনকে গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে প্রকাশ করেছে। দলটি দাবি করে যে, তাকে অবিলম্বে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শের সুযোগ দেওয়া উচিত।
ইমরান খান আগস্ট ২০২৩ থেকে কারাগারে বন্দি আছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘের একটি বিশেষ দল পূর্বে উল্লেখ করেছে যে, তার আটক আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।
এই স্বাস্থ্য সংকটের ফলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এখন সরকারকে কারাগারের চিকিৎসা শর্তাবলী উন্নত করার আহ্বান জানাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, যদি ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধার না হয়, তবে তার রাজনৈতিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আসতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক গতিপথকে প্রভাবিত করবে।
অধিকন্তু, কোর্টের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং PTI-র দাবি সরকারকে আন্তর্জাতিক নজরে আনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে। এই পরিস্থিতি পাকিস্তানের বিচারিক স্বাতন্ত্র্য এবং মানবাধিকার রক্ষার সক্ষমতা পরীক্ষা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরবর্তী ধাপে, আদালত নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা আদেশ করবে। এই প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।



