জাতীয় নাগরিক দল (NCP) আজ দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে দুপুর ১২টা থেকে চলমান ভোটের সময় জালিয়াতি ও অস্বাভাবিকতার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ জানায়। দলটি দাবি করে যে, এই অভিযোগগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত। অভিযোগগুলোকে তুলে ধরতে দলটির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির সচিব মনিরা শারমিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকার বাংলা মোটর, দলীয় অফিসে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন।
সম্মেলনে মনিরা শারমিন উল্লেখ করেন, ভোটের দিন দুপুরের পর থেকে কিছু ভোটকেন্দ্রে দলের পরিচয়পত্রধারী ব্যক্তিরা ভিতরে অবস্থান করে ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে, যদিও কেন্দ্রের ভিতরে কোনো প্রচার নিষিদ্ধ। তিনি বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষ করে ঢাকা-১৮ নম্বর ভোটকেন্দ্রের উটরা হাই স্কুল ও কলেজে দলীয় পরিচয়পত্রধারী ব্যক্তিরা ভোটকেন্দ্রের ভিতরে উপস্থিত ছিলেন এবং ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেছেন বলে দলটি অভিযোগ করে। একই সঙ্গে নিকুঞ্জা এলাকায় মহিলা ভোটারদের প্রতি অনুপযুক্ত আচরণ, একাধিক কেন্দ্রে একই দলের এজেন্টের অতিরিক্ত উপস্থিতি এবং প্রতিপক্ষের ভোট এজেন্টদের বাধা বা অপসারণের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মনিরা শারমিন আরও জানান, নোয়াখালির হাটিয়া সহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রার্থী ও তাদের পরিবারকে লক্ষ্য করে হিংসাত্মক আক্রমণ, কাঁচা বোমা বিস্ফোরণ এবং আনসার সদস্য ও সাধারণ নাগরিকদের আহত করার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার ফলে নির্বাচনী পরিবেশে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্রতা বাড়াতে বলা হয়েছে।
অভিযোগের তালিকায় ভোটার স্লিপ বিতরণে বাধা, ভোটারদের আগমনের আগে তাদের নামে ভোট কাস্ট করা, ভোটপত্র চুরি, পূর্বে সিল করা ভোটপত্রের অননুমোদিত ব্যবহার এবং বয়স্ক ভোটারদের জন্য নির্দিষ্ট চিহ্ন চিহ্নিত করে ভোটের পত্রে চিহ্নিত করার প্রথা অন্তর্ভুক্ত। দলটি দাবি করে যে, এসব অনিয়মের ফলে ভোটারদের স্বেচ্ছা ও গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের অভিযোগও উত্থাপিত হয়। মনিরা শারমিন উল্লেখ করেন, কিছু ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের কাজ বাধা দেওয়া এবং শারীরিক হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা প্রেসের স্বাধীনতা ও তথ্য সংগ্রহের অধিকারকে ক্ষুন্ন করে।
জাতীয় নাগরিক দল এই সকল অভিযোগের দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়ে, প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। দলটি বলেছে, যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে তারা নির্বাচনী আদালতে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা বিবেচনা করবে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন এখনও এই অভিযোগগুলোর প্রতি কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। বিরোধী দলগুলোও নিজেদের দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছে, ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সকল কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণ বাড়ানো উচিত এবং কোনো পক্ষপাতদুষ্ট কার্যকলাপের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি এই অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয় তবে তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। তবে বর্তমান পর্যায়ে সকল পক্ষেরই দাবি করা হচ্ছে, ভোটের ফলাফলকে ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ রাখতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা।



