গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও গাজীপুর সদর অংশ) নির্বাচনী ও রেফারেন্ডাম কেন্দ্রের নারী ভোটার কেন্দ্রের কর্মী তিনজনকে আজকের ভোটদানের সময় ভোট-চালনা সন্দেহে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার সজীব আহমেদ এই সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ করেন।
ঘটনা ঘটেছে শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নারী ভোটার কেন্দ্রে, যেখানে সকাল ১১ টার কাছাকাছি ভোটদান কার্যক্রম চলছিল। ঐ সময়ে কেন্দ্রের পরিবেশ স্বাভাবিক ছিল, তবে এক নারী ভোটার দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে শেষমেশ তার ভোট ইতিমধ্যে গৃহীত হয়েছে বলে জানেন।
দায়িত্ব থেকে সরানো তিনজন হলেন সহকারী প্রেসিডিং অফিসার হরেসা খাতুন, এবং পোলিং এজেন্ট সালমা আখতার ও মাসুম খান। তাদের নাম নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল নথিতে উল্লেখিত, এবং তারা একই সময়ে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মহিলা ভোটারটি প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর জানেন যে তার ভোট ইতিমধ্যে অন্য কোনো ভোটার হিসেবে গৃহীত হয়েছে। তিনি এই বিষয়টি কেন্দ্রের দায়িত্বশীলদের জানিয়ে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের পর কেন্দ্রের তদারকি দল দ্রুত তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে দেখা যায় যে ভোটারকে তার ভোটের কপি প্রদান করা হয়নি, এবং তার নামের অধীনে অন্যের ভোট রেকর্ড করা হয়েছে। এই অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া মাত্রই সহকারী রিটার্নিং অফিসার সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন।
পরবর্তীতে, ভোটারকে তার মূল ভোটের টেন্ডার (নরম) ভোট গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়, যা নির্বাচন কমিশনের নীতি অনুযায়ী করা হয়। টেন্ডার ভোট গ্রহণের মাধ্যমে তার ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয় এবং ভোটের বৈধতা বজায় থাকে।
সজীব আহমেদ জানান, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভোটারকে টেন্ডার ভোট গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে নির্বাচন কমিশন এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এই ঘটনা গাজীপুর-৩ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করেছে। বিশেষ করে এই অঞ্চলে চলমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিবেচনা করলে, ভোট-চালনা অভিযোগের প্রভাব পার্টি গুলোর কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত এই ঘটনার উপর অতিরিক্ত তদারকি বাড়িয়ে তুলেছে এবং অন্যান্য কেন্দ্রে অনুরূপ অভিযোগের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। ভবিষ্যতে ভোটারদের অধিকার রক্ষার জন্য অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
গাজীপুর-৩ কেন্দ্রে এই পদত্যাগের ফলে নির্বাচনের ফলাফলে কোনো সরাসরি প্রভাব পড়বে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে নির্বাচন কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের ব্যবস্থা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।



