গোলশান নির্বাচনী অফিসে আজ বিকাল একটি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নির্বাচনী স্টিয়ারিং কমিটির মুখপাত্র মাহদি আমিন ভোটের ফলাফল ঘোষণার আগে পার্টির নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের ভোটকেন্দ্রে অবস্থান বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, পার্টির জয় নিশ্চিত এবং স্পষ্ট। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়া মূলত প্রতিপক্ষের ‘ভ্রান্তিকর কার্যকলাপ’ের ফল, যা ভোটারদের কেন্দ্রে আসা থেকে বিরত রাখতে চায়।
মাহদি আমিনের মতে, গত রাত থেকে কোড অব কন্ডাক্টের লঙ্ঘন ঘটেছে এবং তা মূল পার্থক্যকে অস্বীকার করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। তিনি বলেন, এই ধরনের হিংসাত্মক প্রচেষ্টা ভোটারদের হুমকি দিয়ে তাদের ভোটদান থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্য বহন করে, ফলে যদি এসব ঘটনা না ঘটত, তবে ভোটগ্রহণের হার বেশি হতো।
জনগণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকারী সকলকে সতর্ক থাকতে এবং ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানানো হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের গণনা প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম না ঘটাতে হবে।
গণনা পর্যায়ে পূর্বে কিছু স্থানে ‘স্টাফড ব্যালট’ এবং ‘নকল ভোট’ পাওয়া গিয়েছে, এমন অভিযোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন। কিছু ক্ষেত্রে মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তির নাম দেখা গিয়েছে, আর অনেক ভোটার নিজেদের ভোট দিতে পারেননি, যা এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে অন্যের ভোট নেওয়ার ‘ফ্যাসিস্ট’ ধাঁচের প্রথার সমতুল্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের নকল করার অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এ ধরনের কৌশল ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির এবং ভোটগ্রহণের হার কমানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, এবং এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে পূর্বে জানানো হয়েছিল।
মাহদি আমিন আরও জানান, গত রাত থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতা, ভোটের ফলাফল বিকৃত করার চেষ্টার পাশাপাশি ‘কালো টাকা’ ব্যবহার করে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা দেখা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিরোধমূলক মনোভাব বজায় রাখতে উৎসাহিত করেন।
নির্বাচন কমিশন কিছু ক্ষেত্রে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। বিরোধী দল থেকে এই অভিযোগের প্রতি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, ফলে পার্টির দাবিগুলোই বর্তমান আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
বিএনপি’র এই আহ্বান এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী দিনগুলোতে পার্টিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশিত, এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার তদারকি প্রয়োজনীয় হবে।
ভবিষ্যতে যদি ফলাফল প্রত্যাশিতভাবে না আসে, তবে পার্টিগুলোর মধ্যে আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়বে। তদুপরি, ভোটারদের অংশগ্রহণের হার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি শক্তিশালী করার মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে।



