দিল্লি হাই কোর্ট বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, বলিউডের অভিনেতা রাজপাল যাদবের জামিন আবেদন শোনার জন্য অধিবেশন পরিচালনা করে। যাদবের আবেদনটি দীর্ঘদিনের চেক বাউন্স মামলার সঙ্গে যুক্ত, যেখানে তিনি আর্থিক দায়িত্বে লিপ্ত ছিলেন। আদালত অভিযোগকারী পক্ষকে জবাব জমা দিতে নির্দেশ দেয় এবং মামলাটি পরবর্তী সপ্তাহের সোমবার পর্যন্ত স্থগিত রাখে।
অধিবেশনে রাজপাল যাদবের পক্ষের আইনজীবী জানান যে, তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক জামিন পিটিশন দাখিল করা হয়েছে এবং প্রতিপক্ষকে তার উত্তর প্রদান করতে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে তিনি যাদবের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেননি এবং অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। তাই তিনি সোমবার পর্যন্ত বিষয়টি সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য স্থগিতের আবেদন করেন।
বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ অভিযোগকারীকে জামিন আবেদনটির প্রতি লিখিত উত্তর দিতে আদেশ দেন। আদালত এরপর মামলাটি সোমবারের সেশনে পুনরায় শোনার জন্য স্থগিত করে, যাতে উভয় পক্ষের মতামত রেকর্ডে যুক্ত করা যায়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ পায়।
শ্রবণে বেঞ্চের কিছু তীক্ষ্ণ মন্তব্যও শোনা যায়; যাদবের আচরণকে সমালোচনা করে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি পূর্বে করা প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়ে জেলখানায় গেছেন। আদালত এই ধরনের অবহেলা আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মানহীনতা হিসেবে বিবেচনা করেছে। বিচারক এই বিষয়টি ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলায় সতর্কতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্তমানে রাজপাল যাদব ছয় মাসের কারাদণ্ডে রয়েছে, যা তিনি ৫ ফেব্রুয়ারি তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করার পর থেকে পালন করছেন। পূর্বে চেক বাউন্স মামলায় তার জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যানের পরই তিনি জেলখানায় প্রবেশ করেন। তার শাস্তি মূলত আর্থিক দায়িত্বের অমীমাংসিত অবস্থা থেকে উদ্ভূত।
এই মামলার শিকড় ২০১০ সালে, যখন যাদব মি. মুরালি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে পাঁচ কোটি টাকার ঋণ গ্রহণ করেন। ঋণটি তার পরিচালনায় তৈরি হওয়া ‘আটা পাতা লাপাতা’ শিরোনামের চলচ্চিত্রের জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়, ফলে আর্থিক ক্ষতি বাড়ে।
ফিল্মের ব্যর্থতা পরবর্তী আর্থিক জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াইয়ের সূচনা করে। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে চেকের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করলেও, যাদবের পক্ষে তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে চেক বাউন্সের অভিযোগে মামলা দায়ের হয় এবং এখন পর্যন্ত বিষয়টি আদালতে চলমান।
সামাজিক মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের আগে যাদব একটি বিবৃতি দিয়ে নিজের অবস্থা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘সার, আমি কী করব? আমার কাছে টাকা নেই এবং কোনো উপায় দেখাচ্ছে না।’ এই কথাগুলো তার আর্থিক সংকটের গভীরতা প্রকাশ করে।
যাদবের পূর্বের জামিন আবেদন ৫ ফেব্রুয়ারি প্রত্যাখ্যানের পর, তার আইনজীবীরা নতুন পিটিশন দাখিলের মাধ্যমে পুনরায় সুযোগের সন্ধান করছেন। নতুন আবেদনটি মূলত তার স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং অপরাধের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। তবে আদালত এখনো অভিযোগকারী পক্ষের উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
আসন্ন সোমবারের সেশনে আদালত অভিযোগকারী পক্ষের লিখিত জবাবের ভিত্তিতে যাদবের জামিনের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করবে। যদি উত্তর সন্তোষজনক না হয়, তবে শাস্তি চালু থাকবে এবং তিনি আরও সময়ের জন্য জেলখানায় থাকতে পারেন। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত যাদবের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে যাবে।



