চিলির নারী ফুটবল দলগুলো ডিসেম্বর মাসে শ্রম আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে ইউনিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জাতীয় নারী ফুটবল খেলোয়াড়দের সমিতি (ANJUF) এখন ক্লাব ও ফেডারেশনকে চুক্তি, সুবিধা এবং শ্রম সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সমষ্টিগতভাবে আলোচনার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। সমিতির সভাপতি জাভিয়েরা মোরেনো, যিনি পূর্বে ইউনিভার্সিদাদ ক্যাথলিকার ক্যাপ্টেন ছিলেন, এই পরিবর্তনকে দক্ষিণ আমেরিকায় নারী ফুটবলের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখেছেন।
মোরেনো উল্লেখ করেছেন, “আমরা এই আন্দোলনকে বৃহৎ করতে চাই এবং অন্য দেশগুলোতেও এই মডেল ছড়িয়ে দিতে চাই। কিছু দেশে আলাদা নারী ইউনিয়ন গঠন প্রয়োজন হতে পারে, তবে প্রত্যেক দেশের ফুটবলার ইউনিয়নে নারী খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত।” তার এই বক্তব্যে সমিতির ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়েছে—কেবল চুক্তি নিয়ে আলোচনা নয়, পুরো লিগের পেশাদারীকরণে অবদান রাখা।
ANJUF প্রায় দশ বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে, তবে ডিসেম্বরের পরিবর্তন তার আইনি অবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। শ্রম আইনের অধীনে ক্লাব ও ফেডারেশনকে সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে, ফলে পূর্বে স্বেচ্ছাসেবী সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীলতা এখন আইনগত বাধ্যবাধকতায় রূপান্তরিত হয়েছে। মোরেনো বলেন, “এই সহযোগিতা সবসময়ই আমাদের প্রধান হাতিয়ার ছিল, এখনও তা বজায় থাকবে, তবে এখন আমাদের ভূমিকা ইউনিয়ন হিসেবে আরও বিস্তৃত হবে।”
সমিতির প্রতিষ্ঠা ২০১৬ সালে কয়েকজন খেলোয়াড়ের উদ্যোগে হয়। ক্রিস্টিয়ানে এন্ডলার, আইওনা রথফেল্ড, কামিলা গার্সিয়া, ফার্নান্দা পিনিলা, রোমিনা পার্রাগুইরে এবং জাভিয়েরা মোরেনো একত্রে নারী ফুটবলের কাজের পরিবেশ উন্নত করার জন্য সংগঠিত হন। তখন থেকে সমিতি ধারাবাহিকভাবে খেলোয়াড়দের জন্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করেছে এবং দুর্ব্যবহার, হয়রানি ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশ মোকাবিলায় নীতি প্রণয়ন করেছে।
এই অর্জনগুলোকে ভিত্তি করে ANJUF এখন লিগের পেশাদারীকরণে মনোযোগ দিচ্ছে। সমিতি দাবি করে যে, খেলোয়াড়দের বেতন, বীমা এবং প্রশিক্ষণ সুবিধা সমানভাবে নিশ্চিত করা উচিত, যাতে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করতে পারে। মোরেনো আবার জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র চুক্তি নয়, পুরো সিস্টেমকে এমনভাবে গড়ে তোলা যাতে নারী ফুটবলের মানদণ্ড বিশ্বমানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।”
চিলির নারী ফুটবলের এই নতুন আইনি অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মোরেনো আশা প্রকাশ করেছেন যে, অন্যান্য দেশও তাদের নিজস্ব খেলোয়াড় ইউনিয়নে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়িয়ে এই মডেল গ্রহণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি আমরা একসাথে কাজ করি, তবে বিশ্বজুড়ে নারী ফুটবলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং খেলোয়াড়দের অধিকার রক্ষার জন্য শক্তিশালী কাঠামো গড়ে উঠবে।”
ANJUF-এর এই সাফল্য চিলির ক্রীড়া নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে। শ্রম আইন অনুযায়ী এখন ক্লাব ও ফেডারেশনকে সমিতির সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ বজায় রাখতে হবে, যা ভবিষ্যতে নারী ফুটবলের জন্য আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ তৈরি করবে। সমিতি আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া জাতীয় লিগের সূচি ও পরিকল্পনা নিয়ে ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে, যাতে খেলোয়াড়দের জন্য সুষ্ঠু চুক্তি এবং উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়।
চিলির নারী ফুটবলের এই অগ্রগতি ক্রীড়া জগতে একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে শ্রমিকের অধিকার ও পেশাদারিত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা হচ্ছে। সমিতির নেতৃত্বে থাকা খেলোয়াড়দের দৃঢ় সংকল্প এবং আইনি কাঠামোর সমর্থন একসাথে কাজ করে চিলির নারী ফুটবলের নতুন যুগের সূচনা করেছে।



