19 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধঝালকাঠি নলছিটি উপজেলায় জাল ভোটের অভিযোগে নারীকে দুই বছর কারাদণ্ড

ঝালকাঠি নলছিটি উপজেলায় জাল ভোটের অভিযোগে নারীকে দুই বছর কারাদণ্ড

ঝালকাঠি নলছিটি উপজেলায় দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় নাম থাকা ছাবিনা বেগম, ৩৪ বছর বয়সী, জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকাল চারটায় ভরতকাঠি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটদান প্রক্রিয়া চলাকালীন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ছাবিনার ভোটের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে হেফাজতে নেওয়া হয়।

গ্রেফতারকৃত ছাবিনার বিরুদ্ধে জাল ভোটের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা জজ মিস মুক্তা রানী মামলাটি শোনার পর দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকার জরিমানা আরোপ করেন।

জেল শাস্তি কার্যকর হওয়ার পর যদি জরিমানা পরিশোধ না করা হয়, তবে অতিরিক্ত পনেরো দিন বিনাশ্রম কারাবাসের ব্যবস্থা করা হবে বলে আদালত নির্দেশ দেন। এ ধরনের শাস্তি বাংলাদেশ নির্বাচন আইনের ধারা ১৯৯ অনুযায়ী জাল ভোটের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তির মধ্যে পড়ে।

ছাবিনা বেগমের পরিবার জানায়, তিনি ওই কেন্দ্রের নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন এবং ভোটদান প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়মের ইচ্ছা না থাকলেও, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সন্দেহের কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরিবার আইনগত সহায়তা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

অতिरिक्त জেলা জজ মুক্তা রানী উল্লেখ করেন, জাল ভোটের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে শাস্তি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো নাগরিকের মধ্যে অনৈতিক ভোটদান প্রেরণা না জাগে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় এ ধরনের পদক্ষেপ অপরিহার্য।

এই মামলায় প্রমাণ হিসেবে ভোটার তালিকা, ভোটদান সময়ের ভিডিও রেকর্ডিং এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের বিবৃতি ব্যবহার করা হয়েছে। আদালত এই প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি নির্ধারণ করেছে।

শাস্তি কার্যকর হওয়ার পর ছাবিনা বেগমের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা শাস্তি ঘোষিতের তারিখ থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে উচ্চতর আদালতে আপিল করতে পারেন। আপিলের ফলাফল চূড়ান্ত শাস্তি নিশ্চিত করবে।

নির্বাচনী কমিশনও এই ঘটনার পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জাল ভোটের অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।

এই ঘটনার পর ভরতকাঠি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটদান প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে নির্বাচনী সচিবালয়ও তথ্য প্রচার চালাবে।

মোটের ওপর, ছাবিনা বেগমের জাল ভোটের অভিযোগে শাস্তি নির্বাচনী আইনের কঠোর প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ভবিষ্যতে ভোটারদের নৈতিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments