বংশাল, পুরনো ঢাকার ব্যস্ত গলির পাশে অবস্থিত বংশাল বালিকা উচ্চবিদ্যালয় আজ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। কেন্দ্রটি বিশেষভাবে নারী ভোটারদের জন্য উন্মুক্ত, ফলে এখানে উপস্থিত সকল ভোটার এবং ভোটদান প্রক্রিয়ায় জড়িত কর্মীই নারী।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. মাসুদুল ইসলাম জানান, “এই কেন্দ্রের সব ভোটার নারী, এবং এজেন্ট থেকে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা পর্যন্ত সবাই নারী।” তিনি যোগ করেন, সকাল থেকে ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক এবং এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সকালবেলা ভোটারদের প্রবাহ বাড়তে থাকে; গৃহিণী শিরীন আক্তার ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো ভোট দিতে এসে বলেন, “বহু বছর পর ভোট দিতে পেরে শান্তি লাগছে, কোনো সমস্যার মুখোমুখি হইনি।” তার মতই অন্যান্য ভোটারদেরও ভোটদান প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো আপত্তি প্রকাশ করা হয়নি।
কেন্দ্রের চারটি ভোটকক্ষের মধ্যে একটিতে বেশ কিছু নারী বোরকা পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। নারী এজেন্ট, নারী পোলিং কর্মকর্তা এবং নারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ভোটারদের পরিচয় যাচাই করে, ব্যালট পেপার প্রদান করে এবং ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলেছে।
৬৮ বছর বয়সে প্রথমবার ভোটদানকারী জেসমিনের ক্ষেত্রে বিশেষ দৃষ্টান্ত দেখা যায়; তার স্বামী তিন ঘণ্টা আগে হুইলচেয়ারে এসে তাকে সহায়তা করেন। জেসমিনের এই প্রথম ভোটদান তার পরিবারের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বংশাল কেন্দ্রের এই অনন্য গঠন নির্বাচন কমিশনের নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুরো কেন্দ্রে নারী কর্মী ও ভোটারদের সমন্বয় ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
আজকের ভোটদান কার্যক্রমে কোনো বিরোধ বা অশান্তি দেখা যায়নি, যা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা ও সমাজের শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রতিফলন। ভোটদান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটগণনা ও ফলাফল প্রকাশের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে, এবং এই কেন্দ্রের সফলতা ভবিষ্যতে অন্যান্য এলাকায় অনুরূপ মডেল গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।



