ঝালকাঠির সরকারি নলছিটি মার্চেন্টস মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকালে ভোট দিতে গিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি, ভাইয়ের হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করে প্রতিবাদ করেন।
মাসুমা হাদি ভোটের জন্য গৃহীত তালিকায় নাম লেখিয়ে, ভোটদান প্রক্রিয়ার অংশ নিতে উপস্থিত হন। ভোটকেন্দ্রের প্রবেশদ্বার ও বের হওয়ার পথে তিনি একটি প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন, যা উপস্থিত ভোটার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার এখনও হয়নি, আমরা ন্যায়বিচার চাই”। এই বার্তাটি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
মাসুমা হাদি সরাসরি বলেন, “আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার আজও হয়নি। ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন থামবে না”। তিনি তার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “১৭০০ শহীদ এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ রক্তঝরার পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুলাইয়ের পর আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে, সরকার যাই হোক না কেন, হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে”।
বক্তব্যের মধ্যে তিনি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের দায়িত্ব ও অধিকারকে তুলে ধরেন, “ভোটদান আমাদের দায়িত্ব, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আমাদের সংবিধানিক অধিকার”। এই বক্তব্যের পর ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ সাময়িকভাবে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে, তবে দ্রুতই শান্তি ফিরে আসে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন, ভোটদান প্রক্রিয়াকে কোনো বাধা না দিয়ে চালিয়ে যান। তারা জানান, ভোটকেন্দ্রে কোনো হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেনি এবং নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে।
ইলেকশন কমিশনের প্রতিনিধি উল্লেখ করেন, “ভোটদান স্বাভাবিকভাবে চলছে, সকল ভোটারকে তাদের অধিকার ব্যবহার করতে স্বাগত জানাই। কোনো প্রকার বাধা বা হস্তক্ষেপের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়নি”। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, ভোটের ফলাফল স্বচ্ছভাবে গণনা করা হবে।
মাসুমা হাদির দাবি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভাইয়ের হত্যার ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত তিনি এবং তার সমর্থকরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি জনমতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত, শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো এই বিষয়কে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরতে পারে, যা ভোটারদের মনোভাবকে পরিবর্তন করতে পারে।
অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য না থাকলেও, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় যে, হিংসা ও অপরাধের শিকারদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা দেশের শীর্ষ অগ্রাধিকার। এই রকম ঘোষণার মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
মাসুমা হাদির প্রতিবাদ ভোটকেন্দ্রের সাময়িক আলোচনার বিষয় হলেও, তার দাবি দেশের মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার তার অঙ্গীকার, রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এবং নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে আইনি পদক্ষেপের দিকে ধাবিত হতে পারে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল ও আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হবে। যদি ন্যায়বিচার দ্রুত না হয়, তবে দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন প্রতিবাদ ও দাবির শৃঙ্খল দেখা দিতে পারে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডকে চ্যালেঞ্জ করবে।



