মোহাম্মদ নবী, আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার, আইসিসি কর্তৃক শাস্তি পেয়েছেন। ঘটনা ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ম্যাচের ১৪তম ওভারে ঘটেছে। তিনি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে লুঙ্গি এনগিডির রিস্ট ব্যান্ড নিয়ে তর্কে লিপ্ত হন। ফলে ম্যাচ ফি’র ১৫ শতাংশ জরিমানা এবং এক ডিমেরিট পয়েন্ট আরোপিত হয়েছে।
আইসিসি আচরণবিধির ধারা ২.৪ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত অমান্য করা নিষিদ্ধ এবং এর জন্য শাস্তি নির্ধারিত। সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে ম্যাচ ফি’র ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা এবং এক থেকে দুই ডিমেরিট পয়েন্ট। তবে এই ক্ষেত্রে ম্যাচ রেফারি ডেভিড গিলবার্টের সঙ্গে নবীর সমঝোতা দ্রুত সমাধান ঘটায়, ফলে আনুষ্ঠানিক শুনানি বাদ পড়ে।
নবীর উপর আরোপিত ১৫ শতাংশ জরিমানা তার বর্তমান ম্যাচ ফি থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে। ডেমারিট পয়েন্টের ক্ষেত্রে, তিনি এক পয়েন্ট পেয়েছেন, যা গত দুই বছরের মধ্যে তার কোনো ডিমেরিট পয়েন্টের সাথে যুক্ত নয়। আইসিসি নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো খেলোয়াড় দুইটি ডিমেরিট পয়েন্ট সংগ্রহ করে, তবে তা সাসপেনশন পয়েন্টে রূপান্তরিত হয়।
আইসিসি এর ডিমেরিট পয়েন্ট ব্যবস্থা অনুযায়ী, এক ডিমেরিট পয়েন্ট এক বছরের মধ্যে দুইবার পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে যোগ হতে পারে। দুইটি ডিমেরিট পয়েন্ট একত্রিত হলে সাসপেনশন পয়েন্টে রূপান্তরিত হয়, এবং দুইটি সাসপেনশন পয়েন্ট সংগ্রহ করলে খেলোয়াড়কে এক টেস্ট, দুই ওয়ানডে অথবা দুই টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমানে নবীর সাসপেনশন পয়েন্ট শূন্য, তাই তিনি তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো ম্যাচ থেকে বাদ পড়বেন না।
ম্যাচ রেফারি ডেভিড গিলবার্টের সিদ্ধান্তে নবীর অনুশোচনা গ্রহণ করা হয় এবং শাস্তি নির্ধারণের পর আনুষ্ঠানিক শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রক্রিয়া আর চালু করা হয়নি। রেফারির এই পদক্ষেপ আইসিসি এর দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত শাস্তি প্রয়োগের নীতি প্রতিফলিত করে।
এই শাস্তি নবীর ক্যারিয়ারে প্রথম ডিমেরিট পয়েন্ট হিসেবে রেকর্ড হয় এবং আইসিসি এর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের উদাহরণ দেয়। আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল এই ঘটনার পর দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনা চালিয়ে যাবে, তবে শাস্তি সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
ম্যাচটি আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দলকে মুখোমুখি করে। ১৪তম ওভারে নবীর তর্কের ফলে গেমের প্রবাহে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছিল, তবে খেলা অব্যাহত থাকে এবং কোনো বড় স্কোর পরিবর্তন হয়নি। উভয় দলই ম্যাচের ফলাফল নিয়ে মনোযোগী ছিল, আর তর্কটি দ্রুত সমাধান হয়ে গিয়েছিল।
আইসিসি এর এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা এবং অনুরূপ বিরোধ এড়িয়ে চলা প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে শাস্তির প্রয়োজনীয়তা কমে এবং খেলা ন্যায়সঙ্গতভাবে চলতে পারে।



