গুলশান, ঢাকা – ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, বিভিন্ন স্থানে এখনও অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটছে এবং এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ভোটের ফলাফল স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হলে সকল দলই তা মেনে নেবে, তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো অনৈতিক হস্তক্ষেপ বা বিভ্রান্তি সহ্য করা হবে না।
বিএনপি গুলশান কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তারেক রহমান তার মন্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের তারিখে গুলশান মডেল হাই স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রের ভোটদান শেষে গুলশান অফিসে এসে এই বক্তব্য দেন। তারেকের এই মন্তব্যের পটভূমি হল, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনার সংবাদ প্রচার।
সকালেই গুলশান মডেল হাই স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রের ভোটদান কক্ষে তারেক রহমান ভোট দেন। ভোটদান শেষে তিনি গুলশান কার্যালয়ে এসে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। এই সময়ে তিনি ভোটের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিরোধের সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।
তারেক রহমানের মতে, ভোটার সংখ্যা যত বেশি হবে, ততই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। তিনি বিশ্বাস করেন, বৃহত্তর অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে কোনো গোপন পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্রের প্রভাব কমে যাবে। এধরনের উচ্চ অংশগ্রহণের ফলে দেশের জনগণ দ্রুত ফলাফল প্রত্যাশা করবে এবং ফলাফলে আস্থা বাড়বে।
তিনি আরও জানান, কিছু গোষ্ঠী বিভিন্ন উপায়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার এবং অনৈতিক কাজের চেষ্টা করছে। এসব গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য হল ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করা, যা জনমতের বিরূপ ধারণা তৈরি করবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এমন কোনো গোষ্ঠীর প্রতি জনসাধারণের নেতিবাচক ধারণা গড়ে উঠবে, এবং তা স্বীকারযোগ্য নয়।
তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের নাম উল্লেখ না করে, সাধারণভাবে এমন গোষ্ঠীর কথা বলেন যারা বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়। তারেকের এই মন্তব্যে লক্ষ্য করা যায়, তিনি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দিকে ইঙ্গিত না দিয়ে, সমস্যার মূলকে অস্বচ্ছতা ও অনৈতিক আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ভোট গণনা দেরি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণনা দেরি হওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, সমগ্র দেশের মানুষ ভোট দিয়েছে এবং তারা দ্রুত ফলাফল প্রত্যাশা করে। তাই নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে ফলাফল প্রকাশের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করতে হবে, এটাই তার প্রত্যাশা।
নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার শর্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি নির্বাচন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়, তবে সব দলই ফলাফল মেনে নেবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা বিভ্রান্তিকর প্রচেষ্টা দেখা দিলে তা স্বীকারযোগ্য নয় এবং কোনো দলই তা গ্রহণ করবে না।
তারেকের এই বক্তব্যের মূল লক্ষ্য হল, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং যে কোনো অনৈতিক হস্তক্ষেপকে বাধা দেওয়া। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার কোনো প্রচেষ্টা যদি দেখা যায়, তবে তা কঠোরভাবে নিন্দা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি জনমতের বিরূপতা বাড়বে।
বিএনপি এই সময়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি তার কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তারেকের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দলটি ফলাফল স্বীকারের জন্য শর্ত হিসেবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই অবস্থান ভবিষ্যতে ফলাফল ঘোষণার পর দলগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের মন্তব্য গুলশান কার্যালয়ে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ভোটার অংশগ্রহণের গুরুত্ব এবং অনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করবে এবং সকল রাজনৈতিক দলই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ফলাফল মেনে নেবে। এই ধরনের প্রকাশনা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে।



