ব্রিটেনের সেভেন্থ-রিচেস্ট বিজনেসম্যান জিম র্যাটক্লিফ, যিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সহ-মালিক, তার সাম্প্রতিক স্কাই নিউজ সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যকে ‘ইমিগ্র্যান্ট দ্বারা উপনিবেশিত’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “৯ মিলিয়ন মানুষ বেনিফিটে এবং বিশাল সংখ্যক ইমিগ্র্যান্টের প্রবাহে অর্থনীতি টিকে থাকতে পারে না।” এই বক্তব্যের ফলে দেশব্যাপী তীব্র বিরোধিতা দেখা দেয় এবং রাজনৈতিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রের নেতারা তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করেন।
লেবার পার্টির নেতা কীর্স স্টার্মার র্যাটক্লিফের এই মন্তব্যের পর সরাসরি তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। স্টার্মার জোর দিয়ে বলেন, এমন রকমের ভাষা সমাজের সংহতি নষ্ট করে এবং রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে র্যাটক্লিফকে তার কথার জন্য দায়বদ্ধ করা উচিত।
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (FA) র্যাটক্লিফের মন্তব্যকে গেমের সুনাম ক্ষুণ্নের সম্ভাব্য লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন শুরু করেছে। FA এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের সিদ্ধান্ত জানায়নি, তবে তিনি যদি নিয়ম ভঙ্গ করে থাকেন তবে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেয়।
র্যাটক্লিফের বক্তব্যে তিনি যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যা সম্পর্কিত ভুল তথ্যও ব্যবহার করেন, যা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে অযৌক্তিক বলে বিবেচিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে ইমিগ্র্যান্টের সংখ্যা অতিরিক্ত এবং বেনিফিট গ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি, যদিও সরকারি পরিসংখ্যান এ ধরনের দাবি সমর্থন করে না।
অ্যান্টি‑রেসিসম সংগঠন শো রেসিজম দ্য রেড কার্ড র্যাটক্লিফের ভাষাকে “মাইগ্র্যান্ট কমিউনিটিকে কলঙ্কিত করার ঐতিহাসিক বর্ণনার পুনরাবৃত্তি” বলে সমালোচনা করে। তারা জোর দিয়ে বলেন, ক্লাবের প্রভাব রেসিজমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যবহার করা উচিত, না যে বিভাজনমূলক বর্ণনা বাড়াতে।
অন্য একটি অ্যান্টি‑ডিসক্রিমিনেশন সংস্থা কিক ইট আউট র্যাটক্লিফের মন্তব্যকে “লজ্জাজনক এবং গভীরভাবে বিভাজনমূলক” বলে চিহ্নিত করেছে। তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এমন রকমের ভুল তথ্য এবং উস্কানিমূলক ভাষা ক্রীড়া জগতের ঐক্যকে ক্ষুণ্ন করে এবং সমাজে বৈষম্যের বীজ বপন করে।
FA-র পাশাপাশি বিভিন্ন ফুটবল ক্লাব ও সংস্থা র্যাটক্লিফের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে খেলোয়াড়, কোচ এবং ক্লাবের নেতৃত্বের দায়িত্ব হল সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলা, যা কোনো রকমের জাতিগত বা জাতীয়তাবাদী বৈষম্যকে সহ্য করে না।
বর্তমানে FA র্যাটক্লিফের মন্তব্যের ওপর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রক্রিয়া চালু করেছে, তবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক শাস্তি বা নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়নি। সংস্থা জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই বিতর্কের ফলে ফুটবল জগতে রেসিজম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। র্যাটক্লিফের মতামত যদিও ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়, তবু তার প্রভাবের পরিধি বিশাল হওয়ায় FA এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছে।
ফুটবল সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, যেখানে ক্লাবের মালিক ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের কথাবার্তা ক্রীড়া ও সমাজের উপর কী প্রভাব ফেলতে পারে তা পুনরায় বিবেচনা করা হবে। ভবিষ্যতে এমন মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি রোধে FA সম্ভবত কঠোর নীতি প্রয়োগ করবে, যাতে খেলাধুলা সবসময় সমতা ও সম্মানের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।



