ঢাকা-১২ আসনে ভোটদান চলাকালীন ব্যালট পেপারে সিল লাগানোর পর ভুলভাবে ভাঁজ করার ফলে ভোট বাতিলের সম্ভাবনা বাড়ছে, এ বিষয়ে প্রার্থী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভোটাররা যখন সিলের কালি পাশের প্রতীকে লেগে যায়, তখন ব্যালট নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয় এবং তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়।
কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় দেখা গেছে, অনেক ভোটার ব্যালটকে এমনভাবে ভাঁজ করছেন যাতে সিলের কালি ছড়িয়ে পড়ে। এই ধরনের ভাঁজের ফলে ব্যালটের চিহ্নিত অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভোটের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিশেষ করে মগবাজার এলাকায় এই সমস্যার প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকা-১২ আসনের ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আবুল বাশার চৌধুরী উল্লেখ করেন, মগবাজারের কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে তিনি একই রকম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি বলেন, কিছু প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা ব্যালট সঠিকভাবে ভাঁজ করার পদ্ধতি সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত নন, যা ভোট বাতিলের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
চৌধুরীর মতে, যদি ভোটাররা সিলের কালি ছড়িয়ে না যায় এমনভাবে ব্যালট ভাঁজ না করে, তবে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে এমন বড় পরিমাণে অবৈধ ভোট তৈরি হতে পারে। তিনি এই বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানান, যাতে ভোটারদের সঠিক নির্দেশনা প্রদান করা যায়।
প্রভাতী বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. ফয়েজ জানান, ভোটাররা যদি ভাঁজের সঠিক পদ্ধতি না জানে, তবে কর্মকর্তারা নিজে থেকে সঠিক পদ্ধতি দেখিয়ে দিচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের সঠিকভাবে ব্যালট ভাঁজ করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে যাতে কোনো ভোট নষ্ট না হয়।
প্রভাতী বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রে মোট ২,৫৫৫ জন পুরুষ ভোটার নিবন্ধিত ছিলেন। সকাল ১১:৩০টা পর্যন্ত ৪৬১ জন ভোট দিয়েছেন, যা প্রায় ১৮ শতাংশের উপস্থিতি নির্দেশ করে। এই সংখ্যা স্থানীয় ভোটদান প্রবণতা এবং ভোটার সচেতনতার সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্যালটের সিলের কালি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা নির্বাচন কমিশনের মৌলিক নির্দেশনা। সিলের কালি যদি ভাঁজের সময় ছড়িয়ে পড়ে, তবে ব্যালটের বৈধতা রদ করা হয়। তাই ভোটারদের জন্য সঠিক ভাঁজের পদ্ধতি জানা এবং তা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন কমিশন পূর্বে ব্যালট ভাঁজের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে সিলের কালি ছড়িয়ে না পড়ে এমনভাবে ব্যালট ভাঁজ করার কথা বলা হয়েছে। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, ব্যালটের দুই প্রান্তকে সমানভাবে ভাঁজ করে সিলের অংশকে রক্ষা করা উচিত।
ঢাকা-১২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র, যেখানে দুই প্রধান দলই জয় নিশ্চিত করতে চায়। ব্যালট ভাঁজের ভুলের ফলে যদি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট বাতিল হয়, তবে তা নির্বাচনের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রার্থীরা এবং কর্মকর্তারা এই বিষয়টি নিয়ে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন।
প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এখন থেকে ভোটারদের সঠিক ভাঁজের পদ্ধতি সম্পর্কে আরও সক্রিয়ভাবে নির্দেশনা দিচ্ছেন। এছাড়া, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ দল গঠন করে ভাঁজের মানদণ্ড মেনে চলা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে তথ্যবহুল পোস্টার এবং সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে সিলের কালি রক্ষা করার জন্য ব্যালট কীভাবে ভাঁজ করতে হবে তা চিত্রসহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই প্রচেষ্টা ভোটারদের ভুল ভাঁজ থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি অবৈধ ভোটের সংখ্যা কমাতে সহায়তা করবে।
নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত এই ধরনের ত্রুটি কমাতে সকল কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সমন্বিত কাজের প্রয়োজন। সঠিক ভাঁজের পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভোটের বৈধতা নিশ্চিত হবে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। ভোটার ও কর্মকর্তাদের যৌথ প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ফলাফলকে প্রভাবিত না করে ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।



