ঢাকা‑১৬ আসনের মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ভোটদান আজ (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কোনো দলীয় নেতার উপস্থিতি ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী কর্মী ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভোটাররা স্বাভাবিকভাবে তাদের ভোট ব্যবহার করছেন, কোনো প্রকার চাপ বা হস্তক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।
এই কেন্দ্রের অধীনে মোট পাঁচটি ভোটকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে, যার মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় সতেরো হাজার। আজকের ভোটগ্রহণে প্রায় আটশত পঞ্চান্নটি ভোটই ইতিমধ্যে গোনা হয়েছে, যা ভোটের প্রবাহের স্বাভাবিক গতি নির্দেশ করে।
কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা, যিনি নিরাপত্তা তদারকি করছেন, তিনি অতীতের নির্বাচনের তুলনায় এইবারের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে কিছু কেন্দ্রে রাজনৈতিক শক্তি বা দলের নেতারা অনুপযুক্তভাবে ভোটারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন, কিন্তু আজকের দিনটিতে এমন কোনো ঘটনা লক্ষ্য করা যায়নি।
মিরপুর বাংলা স্কুলের কেন্দ্র নম্বর ৬৩-এ প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, সকাল সাড়ে সাতটায় ভোট শুরু হওয়ার পর থেকে বিকেল সাড়ে একটায় পর্যন্ত এখানে ৮৫৯টি ভোট গোনা হয়েছে। শুরুর দিকে উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে কেন্দ্রটি ব্যস্ত হয়ে উঠেছে।
কেন্দ্র নম্বর ৬২-এ প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আতাউর রহমানের মতে, সকাল একটায় পর্যন্ত তার কেন্দ্রে ৭৬৩টি ভোট গোনা হয়েছে। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৪৭০, এবং ভোটগ্রহণের পরিবেশ স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রয়ে গেছে।
বাংলা কলেজের কেন্দ্র নম্বর ৬৬ মূলত নারী ভোটারদের জন্য নির্ধারিত। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, সকাল সাড়ে একটায় পর্যন্ত এখানে প্রায় ২০ শতাংশ ভোট গোনা হয়েছে, যা ছয়শোটির বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, নারী ভোটারদের সমবেত উপস্থিতি কেন্দ্রে দৃশ্যমান, তবে এখন পর্যন্ত কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেনি।
ভোটগ্রহণের সময় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি দৃঢ় ছিল। নিরাপত্তা কর্মীরা ভোটকেন্দ্রের চারপাশে পর্যাপ্ত সংখ্যায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং কোনো বিরোধ বা অশান্তি সৃষ্টি করার কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়নি।
নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানান, ভোটদান প্রক্রিয়ার সময় কোনো অভিযোগ বা আপত্তি পাওয়া যায়নি। ভোটাররা স্বাভাবিকভাবে লাইন গঠন করে, ভোট কাস্টে গিয়ে তাদের ভোট প্রদান করছেন এবং ভোটের গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে।
এই শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পেছনে নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশনা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত কাজের ভূমিকা রয়েছে। ভোটের ফলাফল গণনা ও ঘোষণার জন্য প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, এবং ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ শুরু হবে।
সামগ্রিকভাবে, মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ভোটগ্রহণে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভাব, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং নিরাপদ পরিবেশের মিশ্রণ দেখা গেছে, যা আগামী নির্বাচনের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



