21 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিবাহের সাজে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সামিউল ইসলাম ভোট দিলেন, পরে বিয়ে সম্পন্ন

বিবাহের সাজে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে সামিউল ইসলাম ভোট দিলেন, পরে বিয়ে সম্পন্ন

সৈয়দপুর, নীলফামারী – ৩২ বছর বয়সী মো. সামিউল ইসলাম, যিনি নিয়ামতপুর সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিলেন। তিনি বরের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে কনের বাড়িতে যাওয়ার আগে ভোটের জন্য সময় বের করে নিয়েছেন, ফলে তার বিয়ের দিনই নাগরিক দায়িত্ব পালন করা হয়।

সামিউল ইসলাম, যিনি মো. মনজুরুল ইসলামের ছেলে, বলেন, ভোটদান তার অধিকার নয়, বরং একটি বড় দায়িত্ব এবং তিনি ব্যক্তিগত আনন্দের চেয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি যোগ করেন, এমনকি তার নিজের বিয়ের দিনেও তিনি দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চেয়েছেন, তাই তার জন্য “আগে ভোট, পরে বিয়ে” ছিল সঠিক ক্রম।

ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত অন্যান্য ভোটার ও স্থানীয় বাসিন্দারা সামিউলের এই কাজকে প্রশংসা করেন। বেশ কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, বিয়ের দিনেও ভোট দিতে আসা তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস এবং এটি সাধারণ মানুষকে ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তুলেছে। ভোটদান শেষে তিনি ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসে বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, যা উপস্থিত সবাইকে আনন্দিত করে।

স্থানীয় যুব সমাজের নেতারা সামিউলের উদাহরণকে নাগরিক দায়িত্বের মডেল হিসেবে তুলে ধরেছেন। তারা উল্লেখ করেন, এমন স্বেচ্ছাসেবী পদক্ষেপ ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক এবং নির্বাচনী পরিবেশকে শক্তিশালী করে। সামিউলের কাজের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু ব্যবহারকারী তার প্রশংসা করে মন্তব্য করেছেন এবং তার নতুন জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

সৈয়দপুরের নির্বাচনী পরিবেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় প্রতিনিধিরা সামিউলের দায়িত্বশীল আচরণকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়ায়। তারা আরও উল্লেখ করেন, এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় থাকবে।

সামিউল ইসলাম বিয়ের সাজে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ থেকে বেরিয়ে আসা পর্যন্ত পুরো সময়কে উৎসবমুখর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ভোটদান তার জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত এবং এটি তার নতুন জীবনের সূচনা হিসেবে বিশেষ অর্থ বহন করে। তার এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ভোটের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ ভোটের জন্য সময় বের করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর নির্বাচনী কমিশনের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, ভোটদানের সময়সূচি ও প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের সম্মান বাড়ছে। তারা যোগ করেন, নাগরিকদের স্বেচ্ছা অংশগ্রহণ নির্বাচনকে আরও বৈধ ও শক্তিশালী করে তুলবে। সামিউলের মতো উদাহরণগুলো নির্বাচনী সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সামিউল ইসলামের বিয়ের দিনই ভোটদান করা, তার পরিবার ও বন্ধুদের কাছেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। কনের পরিবার জানিয়েছে, তারা তার এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করে এবং বিয়ের অনুষ্ঠানেও তার দায়িত্বশীলতা নিয়ে গর্বিত। উভয় পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতে সন্তানদেরও একই মূল্যবোধ শেখাতে ইচ্ছুক।

সামিউলের এই কাজের ফলে স্থানীয় মিডিয়ায়ও ব্যাপক কভারেজ হয়েছে। সংবাদ সংস্থাগুলো তার গল্পকে নাগরিক দায়িত্বের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং অন্যান্য শহরে অনুরূপ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে।

সামগ্রিকভাবে, সৈয়দপুরের এই ঘটনা দেখায় যে ব্যক্তিগত উৎসবের দিনেও নাগরিক দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব। সামিউল ইসলামের বিয়ের সাজে ভোটদান করা, তার নতুন জীবনের সূচনা এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন উদাহরণগুলো ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়।

৯৪/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাকপ্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments