মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের গুরুচরণ উচ্চ বিদ্যালয় নিকটস্থ ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রথম ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়, এরপর দু’টি অতিরিক্ত বিস্ফোরণ বেলা ১২টায় হয়। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে পাঁচজন সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয় এবং একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়।
বিকাল ১০টায় প্রথম বিস্ফোরণ ঘটার পর ভোটগ্রহণ সাময়িকভাবে থেমে যায়। নিরাপত্তা কর্মীরা ভোটকেন্দ্রের প্রধান গেট বন্ধ করে দেন, যাতে জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়ে। প্রায় সাত‑আট মিনিট পর অতিরিক্ত নিরাপত্তা দল উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গেট পুনরায় খুলে ভোটগ্রহণ পুনরায় শুরু করা হয়।
বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দল现场ে পৌঁছায়। দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করা পাঁচজনকে现场ে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে: রহমত মাঝি (বয়স ৪২), পারভেজ মাঝি (বয়স ২৭), মো. কামাল (বয়স ৩৭), আরশাদ মাঝি এবং সালিম মাঝি।
এই ঘটনার আগে ভোরবেলায় মোল্লাকান্দির মহেশপুর এলাকা থেকে নাহিদ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় বিশটি ককটেল বোমা উদ্ধার করে। এই বোমাগুলোর মধ্যে একটি এখনও বিস্ফোরিত হয়নি এবং নিরাপত্তা কর্মীরা তা নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মাকহাটি গুরুচরণ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের নিকটবর্তী ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা তীতুমীর জানান, বিস্ফোরণের সময় ভোটকেন্দ্রের ভিতরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গেট বন্ধ করা হয় এবং দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার পর গেট পুনরায় খোলা হয়।
স্থানীয় সূত্রের মতে, এই বিস্ফোরণের পেছনে ফুটবল ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইকে কেন্দ্র করে সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় সুনির্দিষ্ট প্রেরণা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনা স্থান পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী এবং পুলিশ সুপারintendেন্ট মো. মেনহাজুল আলম। উভয় কর্মকর্তা নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন যে সংশ্লিষ্ট সকল সন্দেহভাজনকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সদর থানার ওসি মমিন আলী জানান, ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।
বিস্ফোরণের ফলে ভোটগ্রহণে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটলেও, গেট পুনরায় খোলার পর প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ এবং গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন।



