প্রাক্তন প্রধান কোচ অ্যাঞ্জে পোস্টেকোগ্লু টটেনহ্যামকে “বড় ক্লাব নয়” বলে সমালোচনা করেছেন, ক্লাবের ব্যয় ও বেতন কাঠামোকে মূল সমস্যারূপে তুলে ধরেছেন। তিনি সম্প্রতি স্টিক টু ফুটবল পডকাস্টে এই মতামত প্রকাশ করেন, যেখানে টটেনহ্যামের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে।
টটেনহ্যাম গত বুধবার থমাস ফ্র্যাঙ্ককে পদত্যাগের আদেশ দেন। ফ্র্যাঙ্ক, পোস্টেকোগ্লুর পরবর্তী মৌসুমে প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তবে প্রিমিয়ার লিগে দলকে উন্নত অবস্থানে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হন এবং দল ১৬তম স্থানে নেমে আসে।
পোস্টেকোগ্লু উল্লেখ করেন, “গত ছয় মাসে দুবার একই অবস্থানে ফিরে আসতে হয়েছে, যা সহজ নয়।” তিনি বলেন, ক্লাবের সমস্যার একমাত্র কারণ কোচ নয়, বরং গঠনগত অনিশ্চয়তা ও আর্থিক নীতি।
তিনি আরও জানান, “গত বছরের শেষের দিকে টটেনহ্যাম একটি বড় পরিবর্তনের মুখে ছিল, শুধু আমার নয়, এক্সিকিউটিভ চেয়ার ড্যানিয়েল লেভির প্রস্থানের সঙ্গে।” এই পরিবর্তনগুলো ক্লাবের অভ্যন্তরে অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পোস্টেকোগ্লু বলেন, “যে কোনো কোচকে নিযুক্ত করা হোক, সাফল্যের গ্যারান্টি নেই। টটেনহ্যামে বিশ্বমানের কোচদের নিয়োগ করা হয়েছে, তবু ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, ফ্র্যাঙ্কের লক্ষ্য ও ক্লাবের উদ্দেশ্য কি স্পষ্ট ছিল কিনা।
টটেনহ্যামের আর্থিক নীতি নিয়ে পোস্টেকোগ্লু তীব্র সমালোচনা করেন। “অবিশ্বাস্য স্টেডিয়াম ও প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তুললেও, ব্যয় ও বেতন কাঠামো বড় ক্লাবের মানদণ্ডে নয়,” তিনি বলেন।
ক্লাবের মটো “To Dare Is To Do” (ঝুঁকি নিলে সাফল্য) থাকা সত্ত্বেও, পোস্টেকোগ্লু মন্তব্য করেন, “প্রায়ই তাদের কাজ মটোয়ের বিপরীত দিকেই যায়।” তিনি যুক্তি দেন, বড় সাফল্য পেতে ঝুঁকি নিতে হবে, যা ক্লাবের বর্তমান নীতি থেকে বিচ্যুতি।
পোস্টেকোগ্লু নিজেও ইউরোপা লিগ জয় করার পরই ক্লাব থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, “ক্লাবের ঘোষিত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবিক বিনিয়োগের মধ্যে পার্থক্যই সমস্যার মূল।” তার মতে, টটেনহ্যামের আর্থিক সীমাবদ্ধতা দলকে প্রতিযোগিতামূলকভাবে শক্তিশালী করতে বাধা দিচ্ছে।
স্টেডিয়াম ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গুণগত মানকে স্বীকার করে পোস্টেকোগ্লু বলেন, “এই সুবিধাগুলো বিশ্বমানের, তবে যখন খেলোয়াড়দের জন্য যথাযথ বাজেট না থাকে, তখন সেগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায় না।” তিনি উল্লেখ করেন, ক্লাবের বেতন কাঠামো বড় ক্লাবের তুলনায় কম।
মোটের ওপর পোস্টেকোগ্লু টটেনহ্যামের বর্তমান দিকনির্দেশনা নিয়ে উদ্বিগ্ন, বিশেষ করে ঝুঁকি গ্রহণের অভাব ও আর্থিক নীতির অপ্রতুলতা। তিনি বলেন, “যদি টটেনহ্যাম সত্যিই বড় ক্লাব হতে চায়, তবে বিনিয়োগের দিক থেকে আরও সাহসী হতে হবে।”
বর্তমানে টটেনহ্যাম প্রিমিয়ার লিগে ১৬তম স্থানে রয়েছে, যা ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও আর্থিক কৌশলের পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। পোস্টেকোগ্লুর মন্তব্যগুলো ক্লাবের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও ভবিষ্যৎ নীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।



