ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২:৩০ টার কাছাকাছি ককটেল বোমা ফাটিয়ে একদল অপরাধী প্রবেশ করে। বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে তারা ভোট কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার চুরি করার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্মী ও নিরাপত্তা কর্মীরা হেনস্তা সত্ত্বেও অপরাধীদের কার্যক্রম রোধ করতে পারেনি, ফলে ভোটগ্রহণের কাজ সাময়িকভাবে থামিয়ে রাখা হয়।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক জানান, বোমা ফাটানোর পর দলটি দ্রুত কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে কর্মীদের ওপর হেনস্তা চালায়। হেনস্তা সত্ত্বেও তারা কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করতে পারেনি। তবে বোমা বিস্ফোরণের ফলে মাঠে বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে এবং আশেপাশের কিছু গাছপালা ও কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, অপরাধীরা মূলত ব্যালট পেপার চুরি করার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করেছিল। দলটির মধ্যে একজনকে现场ে আটক করা হয়েছে এবং তার পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। আটক করা সন্দেহভাজনকে স্থানীয় জেলখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে এবং ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
ভোটগ্রহণের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটের সময়সূচি পুনরায় নির্ধারণের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। ভোটারদের জানানো হয়েছে যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত ভোটগ্রহণ পুনরায় চালু করা হবে না।
অপরাধী দলের পেছনের সংগঠন ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। পুলিশ দল ঘটনাস্থলে ফরেনসিক পরীক্ষা চালিয়ে বোমার ধরণ ও ব্যবহৃত উপাদান শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এছাড়া, বোমা ফাটানোর সময় ক্যামেরা রেকর্ডে ধরা ভিডিও ও সাক্ষীদের বিবরণ থেকে সন্দেহভাজনের পরিচয় ও গতি-দিক নির্ণয় করা হবে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অপরাধীরা পূর্বে নির্বাচনী এলাকায় অনুরূপ আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাই, স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী এখন থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সকল ধাপের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
অধিক তদন্তের পর, আটক করা সন্দেহভাজনকে অপরাধমূলক দায়ের আওতায় আনা হবে এবং আদালতে উপস্থাপন করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে, ককটেল বোমা ব্যবহার, হেনস্তা ও ভোট চুরি প্রচেষ্টা ইত্যাদি অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। মামলাটি জেলা আদালতে দায়ের হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সংগ্রহের পর ফৌজদারি শাস্তি নির্ধারণের জন্য বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এই ঘটনার পর নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ধরনের হিংসাত্মক আক্রমণ রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গৃহীত হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।



