পাল্লেকেলে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ বি ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ২২৫-৫ রান তৈরি করে ওমানকে ১০৫ রানে পরাজিত করেছে। এই জয় দলটির গ্রুপে দ্বিতীয় জয় এবং টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ টোটাল হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। শ্রীলঙ্কা ক্যাপ্টেন দাসুন শানাকা ১৯ বলের মধ্যে অর্ধশতক পূর্ণ করে দ্রুততম শ্রীলঙ্কা অর্ধশতক রেকর্ড গড়ে তুলেছেন।
শ্রীলঙ্কা প্রথম ব্যাটিংয়ে পাভন রথনায়কে এবং কুসাল মেন্ডিসের সমন্বয়ে মজবুত ভিত্তি গড়ে তোলেন। উভয় খেলোয়াড়ই অর্ধশতক পার করে ৯৪ রানের তৃতীয় উইকেটের অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন, যা দলের উচ্চ স্কোরের ভিত্তি স্থাপন করে। শানাকার আক্রমণাত্মক স্বভাব পিচের সুবিধা নিয়ে ওমানের বোলারদের চারপাশে ছড়িয়ে দেয়, পাঁচটি ছয় এবং দুইটি চারের মাধ্যমে দ্রুত রানের প্রবাহ বজায় রাখেন।
শানাকা ১৯ বলের মধ্যে ৫০ রান তৈরি করে শ্রীলঙ্কার টি২০ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গতি অর্জন করেন। তার এই অর্ধশতক দলকে ২২৫ রানের লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শানাকার আক্রমণাত্মক শটের পাশাপাশি, বামহাতি কামিন্দু মেন্ডিস শেষের দিকে দ্রুত ১৯* রান যোগ করেন, মাত্র সাতটি বলের মধ্যে একটি চার এবং দুইটি ছয় মারেন। তার এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রভাবশালী পারফরম্যান্স শ্রীলঙ্কার স্কোরকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
শ্রীলঙ্কার মোট ২২৫-৫ স্কোর টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ টোটাল হিসেবে রেকর্ড হয়। এই স্কোরের পরে ওমানের ব্যাটিং শুরু হয়, তবে শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণ তাদের লক্ষ্য অর্জনে বাধা দেয়। ওমানের ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নাদিম একা ৫৩* রান করে দলের একমাত্র সাফল্য হিসেবে দাঁড়ান। তিনি টি২০ বিশ্বকাপে সর্ববয়সী অর্ধশতককারী হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখেন।
নাদিমের একক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ওমান ১২০-৯ স্কোরে আটকে যায়। শ্রীলঙ্কার বোলাররা ধারাবাহিকভাবে উইকেট নেয়, যার মধ্যে মেহীশ থিকশানা এবং দুশমন্তা চামীরা প্রত্যেকে দুইটি করে উইকেট সংগ্রহ করেন। তাদের সঠিক লাইন এবং দৈর্ঘ্য ওমানের ব্যাটসম্যানদের আক্রমণকে সীমাবদ্ধ রাখে, ফলে দলটি লক্ষ্য স্কোরে পৌঁছাতে পারে না।
শ্রীলঙ্কার জয় গ্রুপ বি-তে তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করে এবং টুর্নামেন্টের অগ্রগতিতে আত্মবিশ্বাস যোগায়। দলটি এখন গ্রুপের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে তাদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। শানাকার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা দ্রুতগতির ব্যাটিং এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিংয়ের সমন্বয় দেখিয়ে টি২০ বিশ্বকাপে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে চায়।
এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং পারফরম্যান্স এবং বোলিং দক্ষতা উভয়ই আলাদা করে দেখা যায়। শানাকার রেকর্ড অর্ধশতক, রথনায়কে ও মেন্ডিসের স্থিতিশীল অর্ধশতক, এবং কামিন্দুর দ্রুত শেষের পারফরম্যান্স দলকে বিশাল স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, থিকশানা ও চামীর বোলিং শৃঙ্খলা ওমানের ব্যাটসম্যানদের আক্রমণকে সীমাবদ্ধ করে, যা শ্রীলঙ্কার জয়ের মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়।
শ্রীলঙ্কা ও ওমানের এই মুখোমুখি ম্যাচটি টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে রেকর্ড হয়। শ্রীলঙ্কার উচ্চ স্কোর এবং দ্রুত অর্ধশতক রেকর্ড টুর্নামেন্টের গতি বাড়িয়ে দেয়, আর ওমানের নাদিমের বয়স-সীমা অতিক্রমকারী অর্ধশতক নতুন রেকর্ড স্থাপন করে। উভয় দলই ভবিষ্যৎ ম্যাচে এই পারফরম্যান্সকে ভিত্তি করে উন্নতি করার সুযোগ পাবে।



