ঢাকা‑১৫ নির্বাচনের প্রথম দেড় ঘণ্টা শেষে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কেন্দ্রে প্রায় দশ শতাংশ ভোট গোনা হয়েছে। পুরুষ ভোটারদের মোট সংখ্যা ৩,৪১৮, যার মধ্যে সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩৩৩ জন ভোট দিয়েছেন। নারী ভোটারদের জন্য দুটি আলাদা কেন্দ্র রয়েছে, যাদের মোট ভোটার সংখ্যা যথাক্রমে ৩,১৫৫ ও ৩,১৮২।
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, ভোট শুরুর পর প্রথম দেড় ঘণ্টায় প্রায় ১০ শতাংশ ভোট গোনা হয়েছে। একই সময়ে শামসুল ইসলাম নামের এক ভোটার ভোটদান শেষ করে বেরিয়ে বলেন, “ভোট দিতে ২‑৩ মিনিট সময় লাগছে।” শামসুল ইসলাম ছয় বছর আগে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছিলেন, তবে এই নির্বাচনই তার প্রথম ভোট। তিনি পূর্বে অন্য কেউ তার ভোট দিচ্ছিল বলে অভিযোগ করে, এবার কোনো বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছেন বলে আনন্দ প্রকাশ করেন।
সকাল আটটায় মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রবেশদ্বারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করে ছিলেন। ভোটার, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। কেন্দ্রে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থক দলগুলোর লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
পুরুষ ভোট কেন্দ্রের আরেকজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জাকির হোসাইন জানান, শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টায় তার কেন্দ্রে ২০৪টি ভোট গোনা হয়েছে। তার কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৩৭১। তিনি উল্লেখ করেন, দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষের সব এজেন্ট উপস্থিত ছিলেন, তবে অন্যান্য দলের এজেন্টদের উপস্থিতি সীমিত। ভোট শুরুর পর প্রায় সাড়ে সাতটায় ভোটারদের মধ্যে চাপ দেখা গিয়েছিল, তবে সময়ের সাথে সাথে চাপ কিছুটা কমে এসেছে।
মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে দুটি নারী ভোট কেন্দ্র রয়েছে। প্রথম নারী কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩,১৫৫, যার মধ্যে সকাল নয়টা পর্যন্ত ১৫০ জন ভোট দিয়েছেন। এই কেন্দ্রে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্টরা উপস্থিত, অন্য দলের এজেন্টদের উপস্থিতি নেই।
দ্বিতীয় নারী কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তার কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩,১৮২, এবং শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টায় ১২৭টি ভোট গোনা হয়েছে। এখানে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা এবং প্রজাপতি (বাটারফ্লাই) প্রতীকের এজেন্টরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বজায় রাখা হয়েছে। ভোটারদের প্রবেশের আগে পরিচয় যাচাই এবং ভোটার তালিকায় নামের মিল নিশ্চিত করা হয়। ভোটদান শেষে ভোটারদের দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত প্রবেশদ্বার ও বেরিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছে।
ভোটের গতি সম্পর্কে কেন্দ্রের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, অধিকাংশ ভোটার এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করতে পারেন। এই গতি ভোটারদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে দ্রুত ভোট দেওয়ার সুযোগ দেয়।
প্রথম দুই ঘণ্টা পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটদান প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে চলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি এবং ভোটারদের শৃঙ্খলাবদ্ধ আচরণ ভোটদানকে মসৃণভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছে।
কেন্দ্রের আশেপাশে বিভিন্ন দলের সমর্থক দলগুলোর উপস্থিতি দেখা যায়, তবে কোনো প্রতিবাদ বা অশান্তি রেকর্ড করা যায়নি। ভোটারদের মধ্যে ভোটদান প্রক্রিয়ার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা যায়।
এই ভোটদান পর্যবেক্ষণকারী স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক ও মিডিয়া প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, ভোটের গতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ভোটের গতি এবং কেন্দ্রে উপস্থিতি ভবিষ্যৎ নির্বাচনের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করবে। নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ভোটের প্রবাহ ও অংশগ্রহণের বিশ্লেষণ করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, ঢাকা‑১৫ মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটদান প্রক্রিয়া দ্রুত, নিরাপদ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পরিচালিত হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে।



