26 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচট্টগ্রামে ভোটের সকাল: গলিতে ভিড়, ব্যাটারি রিকশা ও বন্ধ দোকান

চট্টগ্রামে ভোটের সকাল: গলিতে ভিড়, ব্যাটারি রিকশা ও বন্ধ দোকান

মাঘের শেষের দিন, বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রাম শহরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটদান শুরু হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুসারে ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজি চালিত অটো রিকশা সড়কে না থাকলেও, বাস, টেম্পো এবং ব্যাটারি রিকশা সক্রিয়ভাবে চলাচল করে। প্রায় ছয়টায় সূর্যের আলো ফুটলেও, ভোটের প্রস্তুতি গলির কোণায়ই দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

সড়কের যানবাহন সংখ্যা কম থাকলেও, ফয়স লেকের নুরিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের সামনে বিশাল ভিড় গড়ে ওঠে। কেন্দ্রে বিভিন্ন দলের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা ভোটারদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকে, এবং ভোট শুরুর এক ঘন্টারও কম সময়ে ভোটারদের উপস্থিতি অতীতের কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি।

পশ্চিম বাকলিয়া এলাকার গলিগুলোতে ‘ভোট‑উৎসব’ নামে পরিচিত দৃশ্য স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। লম্বা গলির পাশে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার কার্ড ঝোলানো কর্মীরা একের পর এক দাঁড়িয়ে থাকে, যা ভোটারদের আকর্ষণ বাড়ায়। এক জায়গায় ব্যাটারি রিকশা সারিবদ্ধভাবে থেমে থাকে, এবং সেগুলোর ওপর নির্দিষ্ট দলের প্রতীক ঝুলিয়ে রাখা থাকে, যা ভোটারদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত।

মূল সড়কে দোকানপাট বন্ধ থাকলেও, গলির কোণার ছোট চা দোকানগুলোতে তাজা পরোটা ভাজার গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে থাকে। গ্রাহকরা তাড়াতাড়ি না হলেও, সকালের তাজা চা ও পরোটা খেতে আসা মানুষদের সংখ্যা কম নয়। এই পরিবেশ ভোটের দিনকে স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে মিশ্রিত করে দেখায়।

লেখক ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রথম দিন ভোরে বাড়ির নিকটস্থ নুরিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের দিকে রওনা হন। কেন্দ্রে পৌঁছে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর, ব্যাটারি রিকশা চালক নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যাত্রা শুরু করেন। নাসির উদ্দিন ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা, যিনি ভোটের আগে কয়েকটি ট্রিপ করে নিজের বাড়ির নিকটস্থ কেন্দ্রে ভোট দেন। রিকশা চালকের সঙ্গে কথোপকথন চলাকালে, তিনি ভোটের গুরুত্ব ও স্থানীয় গৃহস্থালির প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন।

গমনের পথে জিইসি মোড়ে গিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পার হয়ে চকবাজারে পৌঁছানো হয়, এরপর বাকলিয়া এলাকার দিকে অগ্রসর হওয়া হয়। শহরের বেশিরভাগ দোকান সকালবেলায় বন্ধ থাকলেও, গলির মোড়ে গুচ্ছ গুচ্ছ ভিড় দেখা যায়। দু-একটি সেনাবাহিনীর টহল গাড়ি নীরবতা ভেঙে গিয়ে চলাচল করে, যা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেখা যায়।

পশ্চিম বাকলিয়া গলিতে আবারও ভোট‑উৎসবের চিত্র পুনরাবৃত্তি হয়। ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার কার্ড ধরে থাকা কর্মীরা গলির দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, এবং ব্যাটারি রিকশা গুলোর ওপর নির্দিষ্ট দলের চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এই ব্যবস্থা ভোটারদের কেন্দ্রে সহজে পৌঁছাতে সহায়তা করে এবং ভোটের প্রবাহকে দ্রুততর করে।

বড় শহরের ভোটের দিন সাধারণত ট্রাফিক জ্যাম ও গৃহস্থালির ব্যস্ততা বাড়িয়ে দেয়, তবে এইবার সরকারি নির্দেশনা মেনে ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকায় রাস্তায় তুলনামূলক স্বচ্ছতা দেখা যায়। তবে গলির ভিড় ও ব্যাটারি রিকশার ব্যবহার দেখায় যে, ভোটারদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

এই ধরনের প্রস্তুতি ও উচ্চ উপস্থিতি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন দলের কর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গতি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরণের গলির ভোট‑উৎসবের মডেল অন্যান্য শহরে পুনরাবৃত্তি হতে পারে, যা ভোটারদের সহজে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে।

সারসংক্ষেপে, চট্টগ্রামের ভোটের সকালটি গলির ভিড়, ব্যাটারি রিকশা, এবং বন্ধ দোকানের মাঝেও সক্রিয় ভোটার উপস্থিতি দিয়ে চিহ্নিত হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা, নিরাপত্তা টহল গাড়ির উপস্থিতি এবং বিভিন্ন দলের সমন্বিত প্রচেষ্টা একত্রে একটি সুসংগঠিত ভোটের পরিবেশ গড়ে তুলেছে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments