মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সদর উপজেলার মাকহাটি গুরুচরণ উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের সামনে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই হঠাৎ ঘটনার ফলে কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ প্রায় পনেরো মিনিটের জন্য বন্ধ হয়ে যায় এবং পরে পুনরায় শুরু হয়।
বিস্ফোরণের সময় ১০ থেকে ১২টি ককটেল একসাথে ফেটে, আশেপাশের ভোটার ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্কের স্রোত বইয়ে দেয়। লোকজন দ্রুত ছুটে বেরিয়ে যায়, যদিও কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আঘাতের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রিজাইডিং অফিসার মো. তিতুমীর জানান, বিস্ফোরণের পর প্রায় পনেরো মিনিটের বিরতির পরে ভোট গ্রহণ আবার সকাল ১০:১৫ টার দিকে চালু হয় এবং বর্তমানে ভোটদান চলমান।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলার পেছনে ফুটবল ও ধানের শীষ সমর্থকদের মধ্যে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় গোষ্ঠীর সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছিল, যা শেষ পর্যন্ত হিংসাত্মক রূপ নেয়।
পুলিশ সুপারভাইজার মো. মেনহাজুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেন। সদর থানার ওসি মমিন আলীও জানান, ঘটনাস্থলে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশি উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ভোট কেন্দ্রের চারপাশে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নির্বাচনের সময় এমন হিংসাত্মক ঘটনা ঘটলে ভোটারদের অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রভাবিত হতে পারে এবং ভোটের ফলাফলে অনিচ্ছাকৃত প্রভাব পড়তে পারে। নির্বাচনী কমিশন ইতিমধ্যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে, বিশেষ করে উত্তেজনা বেশি এমন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করার কথা প্রকাশ করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, মুন্সীগঞ্জের এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং পরবর্তী নির্বাচনী রাউন্ডে পার্টিগুলোর কৌশলগত পরিবর্তনকে প্ররোচিত করতে পারে। বিশেষ করে, ফুটবল ও ধানের শীষ সমর্থকদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই যদি নিয়ন্ত্রণহীন থাকে, তবে ভবিষ্যতে আরও হিংসাত্মক সংঘর্ষের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।
অধিকন্তু, ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য নির্বাচনী কমিশন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার করা হয়নি, তবে তদন্ত চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি দূর করতে, ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা, নিরাপত্তা গার্ড এবং জরুরি মেডিকেল টিমের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে বলে কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি।
বিস্ফোরণের পর ভোট গ্রহণ পুনরায় শুরু হওয়া সত্ত্বেও, কিছু ভোটার এখনও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং বিকল্প ভোটদান পদ্ধতি, যেমন আগাম ভোট বা দূরবর্তী ভোটদান, নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা এই উদ্বেগের প্রতি সাড়া দিয়ে, ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মুন্সীগঞ্জের এই ঘটনা দেশের অন্যান্য নির্বাচনী এলাকায়ও সতর্কতা সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা দুর্বলতা যেখানে দেখা দেয়, সেখানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা জরুরি। ভবিষ্যতে এমন ধরনের হিংসা রোধে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতা বাড়ানো, পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তত্ত্বাবধান শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, মুন্সীগঞ্জের গুরুচরণ উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ভোট প্রক্রিয়াকে সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে, তবে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভোটদান পুনরায় চালু করা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলমান এবং নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।



